যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিল লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭)-এর এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা পরিবার, বন্ধু এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।
আটক হলেন সন্দেহভাজন রুমমেট
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, লিমনের রুমমেটকে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি ফোনকলের সূত্র ধরে পুলিশ একটি সন্দেহজনক বাসভবনে পৌঁছায়। সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে সোয়াট দলের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার কোনো শিক্ষার্থী নন। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটকের সময় স্থানীয় সময় সকাল ১০:৩৬ মিনিটে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ১১:৫৫ মিনিটে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
সোয়াট (SWAT) হলো মার্কিন পুলিশের বিশেষায়িত কৌশলগত দল, যাদের সাধারণত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে অভিযান পরিচালনার জন্য ডাকা হয়। এই ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের সহায়তা নেওয়া হয়।
শেষবার কখন কোথায় দেখা গিয়েছিল
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ লিমন ও বৃষ্টিকে দেখা যায়। লিমনকে সকাল ৯টার দিকে ট্যাম্পার অ্যাভালন হাইটসে তার বাসস্থানে দেখা যায় এবং বৃষ্টিকে সকাল ১০টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবার দেখা যায়।
জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। দুজনেরই পরিবার বাংলাদেশে অবস্থান করছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পা শহরে অবস্থিত একটি সরকারি গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন দেশের অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
দূতাবাসের তৎপরতা ও তদন্তের বর্তমান অবস্থা
এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, এফবিআই এবং মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও তদন্তকারী পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নাহিদা বৃষ্টির কোনো খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোও ঘটনাটি নিয়ে নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করছে। তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউন