পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি এই চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, 'ইসলামাবাদে আজই একটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে যদি চুক্তি সই না হয়, তবে আমি ইরানের প্রত্যেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সব সেতু উড়িয়ে দেবো। তারা এখন আমাদের শর্তের মুখে রয়েছে।' তবে ট্রাম্প ঠিক কোন সময়ের মধ্যে এই চুক্তির কথা বুঝিয়েছেন, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।
ইরানের নীরবতা ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা
ট্রাম্প 'আজই' চুক্তি হওয়ার কথা বললেও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়া বা প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আগ্রহী হলেও চুক্তি স্বাক্ষরের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা এখনো ধীরলয়ে এগোচ্ছে।
এর আগে গত রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি প্রভাবশালী প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে আলোচনা করতে যাবেন। এই দলে রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। মার্কিন প্রশাসনের এত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সমন্বয়ে আলোচনা পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেখে অনেকেই অনুমান করছেন, ওয়াশিংটন এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
চার দশকের বরফ গলাতে পাকিস্তানের ভূমিকা
১৯৭৯ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার দীর্ঘ চার দশক পর গত ১১-১২ এপ্রিল পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার পর থেকেই দ্বিতীয় দফার বৈঠকের তোড়জোড় চলছে। এরই মধ্যে সোমবাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। সূত্র: আনাদোলু।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চার দশকের বেশি সময় ধরে স্থগিত ছিল। গত ১১-১২ এপ্রিলের বৈঠক সে অর্থে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। পাকিস্তান এই আলোচনার মঞ্চ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে — দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
চুক্তি সই না হলে যা হতে পারে
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে ইরানের অবকাঠামোগত কাঠামো ধ্বংসের হুমকি সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর শঙ্কা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনেের কঠোর বার্তা আলোচনার টেবিলে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেও কাজ করতে