বাংলাদেশ সরকার চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইউনিফর্ম ও জুতা বিতরণের একটি পাইলট কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী Bobi Hajjaj এই কর্মসূচি সম্পর্কে জানান এবং Bangladesh Secretariat-এ একটি সভা অনুষ্ঠিত করেন।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ দেশের বিভিন্ন ফুটওয়্যার কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৃহৎ কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
কত শিক্ষার্থী উপকৃত হবেন এবং কীভাবে
পাইলট কর্মসূচিটি দেশের প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৮০ দিনের একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যার মাধ্যমে বিতরণ প্রক্রিয়া, গুণগত মান এবং কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। এই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পথ নির্ধারণ করবে।
শিল্পের ইতিবাচক সাড়া এবং সরবরাহের পরিকল্পনা
তৈরি পোশাক শিল্পের বড় বড় সংগঠন ইতোমধ্যে এই কর্মসূচিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। পাইলট প্রকল্পের জন্য ৪ লাখেরও বেশি ইউনিফর্ম সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সম্ভাব্য অনুদান, উৎপাদন ব্যয় এবং সরবরাহ সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান।
জুতার ডিজাইন এবং বৈশিষ্ট্য
প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাদা রঙের ভেলক্রো (ফিতাবিহীন) কেডস সরবরাহের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়নে বয়স, আরাম, সাইজের বৈচিত্র্য এবং ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়েছে। এই পদ্ধতি নিশ্চিত করে যে সকল শিক্ষার্থী উপযুক্ত এবং আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পাবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সময়সীমা
ভবিষ্যতে এই কর্মসূচিকে টেকসই করতে সরকার ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তির আগেই এই উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই পাইলট কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করতে চায় সরকার।