ঢাকার বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুটি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। সফরকারীরা প্রথম ম্যাচে জেতে ৭ উইকেটে, দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটে—ফলে বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া মহিলা ওডিআই সিরিজ একপেশে দাপটে শেষ হয়।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (এবিসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন তরুণ ব্যাটার ফিবি লিচফিল্ড। এবিসির শিরোনামে তার 'ফায়ারওয়ার্কস' বা ঝমঝমে ব্যাটিংয়ের কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য ছিল বাস্তবতা যাচাইয়ের মঞ্চ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের আগে শীর্ষ দলের বিপক্ষে খেলার মূল্যবান অভিজ্ঞতাও মিলল স্বাগতিকদের।
দুই ম্যাচের স্কোরকার্ডে যা আছে
৯ অক্টোবর প্রথম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১৬৬ রানে থামে বাংলাদেশ। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান তুলে ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।
১১ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ তুলে ৬ উইকেটে ২২০ রান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ২২২ রান করে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে যায়। তবে সরবরাহ করা স্কোরকার্ডে কোনো ব্যক্তিগত স্কোর বা খেলোয়াড়ের নামের বিস্তারিত তথ্য নেই।
ফিবি লিচফিল্ড কে এবং কেমন খেললেন
ফিবি লিচফিল্ড অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম উদীয়মান প্রতিভা, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংই অস্ট্রেলিয়ার জয়ের হেডলাইন হয়েছে, জানিয়েছে এবিসি। তবে কোন ম্যাচে তিনি কত রান করেছেন, সেই তথ্য পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার দাপটের ভিত্তি তাদের গভীর ব্যাটিং লাইন-আপ, শক্তিশালী পেস আক্রমণ আর দক্ষ ফিল্ডিং। মেগ ল্যানিং (অবসরপ্রাপ্ত), অ্যালিসা হিলি, এলিস পেরি, মেগান শাট ও জেস জোনাসেনের মতো তারকারা দলটিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দলটি বিশ্বকাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন।
বাংলাদেশ মহিলা দলের অবস্থান ও সবচেয়ে বড় সাফল্য
২০১১ সালে ওডিআই মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজে নিয়মিত খেলছে বাংলাদেশ। দলের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৮ সালের টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের শিরোপা।
তবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মতো শীর্ষ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রায়ই বড় লক্ষ্য গড়তে বা তাড়া করতে হিমশিম খান। ফিল্ডিং ও ক্যাচিংয়েও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
শীর্ষ দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত বোঝাপড়া বাড়ায়। ফল একপেশে হলেও প্রতিটি ম্যাচ ভবিষ্যতের জন্য শেখার সুযোগ তৈরি করে।
নারী ক্রিকেট উন্নয়নে বিসিবির উদ্যোগ
গত কয়েক বছরে নারী ক্রিকেটের অবকাঠামো, কোচিং ও ঘরোয়া লিগ উন্নয়নে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিপিএলের পাশাপাশি নারী টি-টোয়েন্টি লিগ চালু এবং বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
বড় মঞ্চের চাপে অভ্যস্ত করতে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের চেষ্টাও করছে বিসিবি। এই সফরে আরও ম্যাচ—যেমন টি-টোয়েন্টি—আছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি; র্যাঙ্কিং বা চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টে এই ফলের প্রভাবও এখনো অস্পষ্ট।