ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০২৬: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা আবারও জোরালো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকেই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ সম্ভাবনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ICAO-এর নির্ধারিত অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে নিউইয়র্ক রুট চালুর পথ খুলে যেতে পারে।
তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এর আগে জুনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)-এর চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের FAA-এর Category 1 নিরাপত্তা রেটিং অর্জনের প্রক্রিয়ার কারণে ২০২৮ সালের আগে নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু করা কঠিন হতে পারে।
অর্থাৎ, নতুন ঘোষণাটি আশাব্যঞ্জক হলেও সামনে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধাপ রয়েছে।
নিউইয়র্কসহ দীর্ঘপথের আন্তর্জাতিক রুট চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের বর্তমান সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও নিউইয়র্ককে গুরুত্বপূর্ণ নতুন গন্তব্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।
ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীদের জন্য এটি হবে বড় ধরনের পরিবর্তন। বর্তমানে ঢাকা-নিউইয়র্ক যাত্রায় সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে ট্রানজিট করতে হয়। বর্তমানে JFK–ঢাকা রুটে কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই এবং বিভিন্ন রুটে এক স্টপে যাতায়াত করতে হয়।
সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাত্রীদের ট্রানজিটের ঝামেলা ও সময় কমার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন এবং প্রবাসী যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এটিকে এখনই নিশ্চিত ফ্লাইট সূচি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ICAO অডিট, বাংলাদেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সক্ষমতা, FAA-এর প্রয়োজনীয় অনুমোদন/রেটিং এবং বিমানবহরের প্রস্তুতি—সবগুলো বিষয় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।
তাই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইটের দরজা আবার খুলছে—কিন্তু চূড়ান্তভাবে দরজা খুলতে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি।