নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (UN-ESCAP)-এর ৮২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ‘টেকসই বায়োইকোনমি’ বা জৈব অর্থনীতি বিষয়ক একটি যুগান্তকারী রেজোলিউশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এই অর্জনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক নেতৃত্বের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
রেজোলিউশনের মূল বিষয়বস্তু
“Supporting the Transition Towards a Sustainable Bioeconomy in Asia and the Pacific” শীর্ষক এই রেজোলিউশনটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়। এতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং একটি টেকসই বায়োইকোনমি ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রেজোলিউশনটি বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার—বিশেষ করে উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি, সার্কুলার অর্থনীতি এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আঞ্চলিক ঐক্য ও সমর্থন
বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, মঙ্গোলিয়া, আর্মেনিয়া এবং কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ সহ-স্পন্সর হিসেবে সমর্থন দিয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এই সর্বসম্মত সমর্থন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক ঐক্যমতের প্রতিফলন।
মন্ত্রীর বক্তব্য
অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “বায়োইকোনমি কেবল একটি নতুন ধারণা নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর ও অপরিহার্য পথ। এই রেজোলিউশন আমাদের অঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগকে আরও গতিশীল করবে।”
অন্যান্য অর্জন
একই অধিবেশনে “সব বয়সের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সামাজিক উন্নয়ন জোরদার” বিষয়ে বাকু-ব্যাংকক ঘোষণা গৃহীত হয়েছে। এটি এই অঞ্চলের সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতিকে আরও পুনর্ব্যক্ত করে।
পর্যালোচনা: এই রেজোলিউশন গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল নিজের কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রমাণ করেনি, বরং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে নিজেকে একজন অগ্রণী অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল।