বগুড়া – উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বগুড়া বিমানবন্দরকে একটি বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক এভিয়েশন গেটওয়েতে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সারা দেশে বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নের সূচনাবিন্দু হিসেবে বগুড়াকে নির্ধারণ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিসেস আফরোজা খানম, এমপি-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে করে এই উচ্চাভিলাষী সম্প্রসারণ প্রকল্পের সবুজ সংকেত দিতে বগুড়া বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "বগুড়ার মানুষ সত্যিই ভাগ্যবান। উত্তরবঙ্গের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা বগুড়াকে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এভিয়েশন হাবে পরিণত করছি।"
এই সম্প্রসারণ কেবল সংস্কার নয়, বরং এ অঞ্চলের অবকাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি-এর মতে, এই প্রকল্পে থাকছে একটি বিশাল ১০,৫০০ ফুটের রানওয়ে, যা আন্তর্জাতিক মানের বিমান চলাচলে সক্ষম হবে এবং বগুড়াকে বিশ্বের বিমান চলাচলের মানচিত্রে স্থান করে দেবে।
প্রকল্পের আওতায় পরবর্তী প্রজন্মের বাংলাদেশি বৈমানিক তৈরির জন্য একটি অত্যাধুনিক পাইলট ট্রেনিং একাডেমি এবং উত্তরবঙ্গের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির জন্য উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কার্গো সুবিধা স্থাপন করা হবে।
প্রতিনিধি দলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর শাহ আলম, এমপি এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের উপস্থিতি এই প্রকল্পের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। কার্গো সুবিধা ও পাইলট ট্রেনিং সেন্টারকে সমন্বিত করার মাধ্যমে সরকার যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা লজিস্টিকসকে একযোগে শক্তিশালী করে একটি "ট্রিপল-থ্রেট" হাব তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এই উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য একটি "নতুন দিগন্ত" উন্মোচন করেছে, যা বগুড়াকে রপ্তানি বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং দেশের পরিবহন নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নোডে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে, যা এই অঞ্চলের জন্য একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমা আক্তার, এনডিসি এবং সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা নিশ্চিত করে যে নকশা থেকে বাস্তবে রূপান্তরের কাজ অবিলম্বে শুরু হতে যাচ্ছে।