সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মের রঙ পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বাংলাদেশ আনসারের ইউনিফর্মের রঙ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের জন্য ‘আয়রন কালার’ (ধূসর-লোহা রঙ), র্যাবের জন্য জলপাই সবুজ এবং আনসারের জন্য সোনালী গমের রঙ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে যখন মহানগর পুলিশ ও অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটে এই নতুন ইউনিফর্ম চালু করা হয়, তখন সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই এই নতুন রঙটিকে ‘আনস্মার্ট’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এটিকে দারোয়ান বা পাহারাদারের পোশাকের সাথে তুলনা করেছেন। কেউ কেউ একে ‘পুরানো কাঁদাটে পুলিশ’ লুক হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাসেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে নতুনভাবে দায়িত্ব নেওয়া সরকার ইউনিফর্মের রঙ আবারও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী:
🔹 মেট্রোপলিটন পুলিশ: খাকি প্যান্ট + প্যাস্টেল/হালকা জলপাই রঙের শার্ট।
🔹 জেলা ও অন্যান্য পুলিশ ইউনিট: খাকি প্যান্ট + গাঢ় নীল রঙের শার্ট।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের জন্য অতিরিক্ত কোনো বাজেটের প্রয়োজন হবে না। নিয়মিত বার্ষিক ইউনিফর্ম সরবরাহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পর্যায়ক্রমে এই নতুন রঙ কার্যকর করা হবে।
তবে জনমনে এখনো একটি প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই নতুন রঙ কি সত্যিই পুলিশের মর্যাদা, স্মার্টনেস এবং জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে? নাকি এটি আবারও নতুন কোনো বিতর্কের জন্ম দেবে?
বর্তমানে নাগরিকদের মনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, “পুলিশের ইউনিফর্মের রঙ বদলালেই কি ভেতরের মানুষটি বদলে যাবে?”