বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে উপকূলীয় সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালী এবং উত্তর-পূর্বের সুনামগঞ্জে ব্যাংকগুলো যে ঋণ দিয়েছে, তা ওই জেলাগুলোর আমানতের অর্ধেকও নয়।
একই সময়ে দেশের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৬৭.৮৪ শতাংশ গেছে ঢাকা বিভাগে। পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোঙ্গাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তথ্য তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, ব্যাংক ঋণ ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে আছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততায় ঝুঁকিপূর্ণ জেলার মানুষের সঞ্চয় ব্যাংকে জমা হলেও সেই টাকার বড় অংশ স্থানীয়ভাবে ঋণ হিসেবে ফেরে না।
তথ্যটি এমন সময়ে এল, যখন তুরস্কের আন্তালিয়ায় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন সামনে। এর প্রস্তুতি বৈঠকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিনিধিরা যুক্তি দিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে যাদের অবদান সামান্য, জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি সামলাতে তাদের নতুন করে ঋণের বোঝা নেওয়া উচিত নয়। দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ব্যাংক ঋণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ঢাকার ভাগ কত
মোঙ্গাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ও অগ্রিম ছিল ১৪৬.৫৫ বিলিয়ন ডলার (১৮.০৯ ট্রিলিয়ন টাকা)। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা বেড়েছে ২.০১ বিলিয়ন ডলার (২৪৮.১৮ বিলিয়ন টাকা), অর্থাৎ ১.৩৯ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগের ৬৭.৮৪ শতাংশের মধ্যে শহরাঞ্চলে গেছে ৬৫.৪৮ শতাংশ, গ্রামাঞ্চলে মাত্র ২.৩৬ শতাংশ। দেশের প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ মিলে ওই প্রান্তিকে মোট ব্যাংক ঋণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পেয়েছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আলাদা হিস্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে বহু মানুষ কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। এসব খাত জলবায়ুজনিত আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ এই চার বিভাগে ঋণের পরিমাণ অনেক কম:
- খুলনা: ৫.৪৫ বিলিয়ন ডলার (৬৭২.২৭ বিলিয়ন টাকা), প্রান্তিকে বৃদ্ধি ২.২৩ শতাংশ
- ময়মনসিংহ: ১.৮০ বিলিয়ন ডলার (২২২.৪৯ বিলিয়ন টাকা), বৃদ্ধি ১.১৫ শতাংশ
- বরিশাল: ১.৫৮ বিলিয়ন ডলার (১৯৪.৮৬ বিলিয়ন টাকা), বৃদ্ধি ১.২৭ শতাংশ
- সিলেট: ১.৫০ বিলিয়ন ডলার (১৮৫.৭৩ বিলিয়ন টাকা), বৃদ্ধি ২.৩১ শতাংশ
সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও সুনামগঞ্জে আমানত আর ঋণের ফারাক কত
জেলাভিত্তিক হিসাবে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। মোঙ্গাবের দেওয়া জুন শেষের তথ্য:
- সাতক্ষীরা (খুলনা বিভাগ): ঋণ ৩৫৫.৭১ মিলিয়ন ডলার (৪৩.৯১ বিলিয়ন টাকা), মোট ঋণের প্রায় ০.২৪ শতাংশ; আমানত ৭৪৫.০৩ মিলিয়ন ডলার (৯১.৯৭ বিলিয়ন টাকা)
- পটুয়াখালী (বরিশাল বিভাগ): ঋণ ২৮০.১৩ মিলিয়ন ডলার (৩৪.৫৮ বিলিয়ন টাকা), প্রায় ০.১৯ শতাংশ; আমানত ৫৭৩.৫৪ মিলিয়ন ডলার (৭০.৮০ বিলিয়ন টাকা)
- সুনামগঞ্জ (উত্তর-পূর্বাঞ্চল): ঋণ ১৯১.৬৭ মিলিয়ন ডলার (২৩.৬৫ বিলিয়ন টাকা), প্রায় ০.১৩ শতাংশ; আমানত ৬৪২.৭৪ মিলিয়ন ডলার (৭৯.৩১ বিলিয়ন টাকা)
তিন জেলাতেই আমানত ঋণের অন্তত দ্বিগুণ। সুনামগঞ্জে আমানত ঋণের তিন গুণেরও বেশি।
পটুয়াখালী ঘূর্ণিঝড়, জোয়ারের প্লাবন, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মোঙ্গাবে জানিয়েছে। দক্ষিণের জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে, লবণাক্ততা ফসলের উৎপাদন কমায় এবং মিঠা পানির প্রাপ্যতা সীমিত করে। উত্তর-পূর্বের হাওরে আকস্মিক বন্যায় ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি হয়। এসব দুর্যোগে কয়েক দিনের মধ্যেই ফসল, মাছ ধরার সরঞ্জাম, ঘরবাড়ি ও ছোট ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
শ্যামনগরের মাছ ব্যবসায়ী কেন ব্যাংক ছেড়ে এনজিওর কাছে
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল গাজী (৩৪) চার সদস্যের পরিবার চালান। মোঙ্গাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে তিনি মাছের ব্যবসা শুরু করেন।
ব্যবসা বাড়াতে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে ঋণের আবেদন করেছিলেন। জামানত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় আবেদনটি নাকচ হয়ে যায়। ব্যবসা চালু রাখ