নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১২৪.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বাজেট প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন, যেখানে জরুরি সেবা, জননিরাপত্তা এবং নাগরিকদের মৌলিক সেবায় কোনো কাটছাঁট না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
মেয়র মামদানি বলেন, আগের প্রশাসনের সময় সৃষ্ট প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তার প্রশাসন “ অস্টেরিটি” বা কঠোর ব্যয়সংকোচনের পথে হাঁটবে না। বরং নিউইয়র্কবাসীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা অব্যাহত রেখে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে মূল লক্ষ্য।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্ক সিটির মানুষ এমন একটি সরকার প্রাপ্য, যারা সংকটের সময় তাদের পাশে দাঁড়াবে, সেবা কমিয়ে দেবে না। আমরা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, EMS, শিক্ষা ও কমিউনিটি সাপোর্টে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব। এই বাজেট মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়েই তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই শহরকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়ন করা হবে।”
প্রস্তাবিত বাজেটে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিস (EMS), শিক্ষা, আশ্রয় সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বজায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জবাবে মেয়র স্পষ্টভাবে বলেন, “এই মুহূর্তে NYPD-তে কাটছাঁটের চিন্তা করা হচ্ছে না।”
সিটি হল সূত্রে জানা গেছে, বাজেট পরিকল্পনায় সম্পত্তি কর বৃদ্ধি এড়ানো হয়েছে এবং রিজার্ভ তহবিলে হাত না দিয়েই ব্যয় সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বিভিন্ন বিভাগে দক্ষতা বৃদ্ধি, চুক্তি পুনর্বিন্যাস এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয় করা হবে।
তবে বাজেট নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক বলছেন, পরিকল্পনাটি আংশিকভাবে অস্থায়ী আয় ও ভবিষ্যৎ রাজস্ব প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজেটটি পর্যালোচনা করবে। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগেই এটি অনুমোদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।