যুক্তরাষ্ট্রের ২৪টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে যোগ্য ভোটাররা আগাম ভোটের সময় বা নির্বাচনের দিনে নিবন্ধন করতে পারেন। ১৯ অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্যে এ কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্স অব স্টেট লেজিসলেচারস (এনসিএসএল), খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন যাচাই করে নেওয়া এখন জরুরি।
৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন আর কয়েক দিন পর। যাঁরা নিজ রাজ্যের নিয়মিত নিবন্ধনের সময়সীমা পার করে ফেলেছেন, তাঁদের কারও কারও জন্য এই ব্যবস্থা ভোট দেওয়ার শেষ সুযোগ হতে পারে।
তবে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, এই সুযোগ সব রাজ্যে নেই। যেসব রাজ্যে আছে, সেগুলোর নিয়মও এক নয়। কে ভোট দিতে পারবেন, তা নির্ভর করছে রাজ্য, ভোটের সময়সীমা আর সঙ্গে নেওয়া কাগজপত্রের ওপর।
একই দিনে ভোটার নিবন্ধন কোন রাজ্যে, কখন
এনসিএসএলের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ২৪ রাজ্যের হিসাবে আসলে তিন ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে:
- ১৭টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি: আগাম ভোটের সময় এবং নির্বাচনের দিন, দুই সময়েই নিবন্ধন করা যায়।
- ৪টি রাজ্য: শুধু নির্বাচনের দিনে নিবন্ধন করা যায়।
- ৩টি রাজ্য: শুধু আগাম ভোটের সময় নিবন্ধন করা যায়।
আলাস্কা ও রোড আইল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ভোট দিতে নিবন্ধনের জন্য আলাদা ও সীমিত বিধান আছে। তবে এনসিএসএলের ২৪ রাজ্যের হিসাবে এই দুই রাজ্যকে ধরা হয়নি।
আগাম ভোট আর নির্বাচনের দিনের পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। যে রাজ্যে শুধু আগাম ভোটের সময় নিবন্ধন করা যায়, সেখানে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলে আর নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
নর্থ ক্যারোলাইনায় কি একই দিনে নিবন্ধন করা যায়?
দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনায় যোগ্য বাসিন্দারা আগাম ভোটের সময় নিবন্ধন করে সেদিনই ভোট দিতে পারেন। কিন্তু নির্বাচনের দিনে সেখানে নিবন্ধন করা যায় না।
প্রতিবেদনে নর্থ ক্যারোলাইনা ছাড়া কোন রাজ্য কোন শ্রেণিতে পড়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে একই দিনে নিবন্ধনের সুযোগ আছে কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। এই দুই রাজ্যসহ সব রাজ্যের বাসিন্দাদের সরাসরি রাজ্য বা স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয় থেকে নিয়মটি নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করবেন কীভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশন (ইএসি) একটি ফেডারেল সংস্থা। দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সংস্থাটির ‘রেজিস্টার অ্যান্ড ভোট ইন ইয়োর স্টেট’ নামে রাজ্যভিত্তিক একটি তালিকা আছে। সেখান থেকে প্রতিটি রাজ্যের সরকারি নির্বাচন কার্যালয় ও ভোটার তথ্যের পাতায় যাওয়া যায়।
পাতাটিতে নিজের রাজ্য বেছে নিলে নিবন্ধনের সময়সীমা জানা যায়, নিজের নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করা যায় এবং ভোট দেওয়ার শর্তগুলো দেখা যায়।
তালিকাটি প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব সরকারি উৎসে নিয়ে যায়। ফলে সেখানে যে নিয়ম দেখা যায়, তা সংশ্লিষ্ট রাজ্যেরই ঠিক করা। একই দিনে নিবন্ধনের সুযোগ আছে কি না, কোথায় যেতে হবে এবং কার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম খাটবে, তা রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয় নিশ্চিত করতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেউ আগে নিবন্ধন করেছিলেন কি না, কিংবা আগের নিবন্ধন এখনো সক্রিয় কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে প্রথমে নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করা দরকার। নিবন্ধিত নন বলে নিশ্চিত হলে তবেই একই দিনে নিবন্ধনের বিকল্প খুঁজতে হবে।
সঙ্গে কী নেবেন, কোথায় যাবেন
দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, কিছু রাজ্যে একই দিনে নিবন্ধনের জন্য বসবাসের প্রমাণ বা পরিচয়পত্র লাগে। কোন কাগজ গ্রহণযোগ্য হবে, তা রাজ্যভেদে আলাদা।
কোথাও কোথাও বর্তমান ঠিকানাসহ ইউটিলিটি বিল বা অন্য কোনো নথি গ্রহণ করা হতে পারে। তবে একই নথি সব জায়গায় চলবে না বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্য ঠিক কোন কোন নথি গ্রহণ করে, তার তালিকা প্রতিবেদনে নেই। তাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে নিজের রাজ্যের শর্ত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত ভোটকেন্দ্রেই নিবন্ধন করা যাবে, নাকি নির্ধারিত অন্য কোনো স্থানে যেতে হবে, সেটিও আগে জেনে নিতে বলেছে দ্য ইকোনমিক টাইমস। কোন রাজ্যে কোন ব্যবস্থা, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। নির্দিষ্ট ঠিকানার জন্য স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয় এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।
যেসব রাজ্যে শুধু আগাম ভোটের সময় নিবন্ধন করা যায়, সেখানে স্থান আর সময় দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধনের সুবিধা আছে এমন আগাম ভোটকেন্দ্র খুঁজে আগাম ভোটের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সেখানে পৌঁছাতে হবে। প্রতিটি রাজ্যে আগাম ভোট কবে শেষ হচ্ছে, তা রাজ্যের নির্বাচন কার্যালয় থেকে জেনে নিতে হবে।
ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা পার হলে কী করবেন
প্রতিবেদনে বর্ণিত ধাপগুলো এ রকম:
- ইএসির ‘রেজিস্টার অ্যান্ড ভোট ইন ইয়োর স্টেট’ পাতায় গিয়ে নিজের রাজ্য বেছে নিন।
- বর্তমান নিবন্ধনের অবস্থা ও রাজ্যের নিবন্ধনের সময়সীমা দেখুন।
- নিবন্ধিত না হলে রাজ্যে আগাম ভোটের সময়, নির্বাচনের দিন নাকি দুই সময়েই নিবন্ধন করা যায়, তা নিশ্চিত হোন।
- পরিচয় বা বসবাসের প্রমাণ হিসেবে কোন নথি গ্রহণযোগ্য, তা জেনে নিন।
- নিয়মিত ভোটকেন্দ্রে যাবেন নাকি নির্ধারিত স্থানে, তা নিশ্চিত করুন।
প্রতিবেদনে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী, যেসব রাজ্যে একই দিনে নিবন্ধনের কোনো ব্যবস্থা নেই, সেখানে এবারের নির্বাচনের জন্য নিবন্ধনের আর কোনো সুযোগ নেই। বাকিদের ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমোদিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন করতে হবে, সেটি আগাম ভোটের সময় হোক বা ৩ নভেম্বর।