ওয়াশিংটন ডিসি — প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী লরি চ্যাভেজ-ডিরেমার পদত্যাগ করেছেন, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রশাসনের তৃতীয় মন্ত্রিসভার সদস্যের বিদায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চ্যাভেজ-ডিরেমার বেসরকারি খাতে একটি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পদ ছেড়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি লেবার সেক্রেটারি কিথ সন্ডারলিং।
অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও চাপের মুখে পদত্যাগ
তার এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো যখন শ্রম মন্ত্রণালয়কে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং কর্মস্থলে অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন দপ্তর তদন্ত করছিল। যদিও চ্যাভেজ-ডিরেমার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে স্বাধীনভাবে কাজ করে এমন একটি অভ্যন্তরীণ পরিদর্শন দপ্তর বা 'অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল' থাকে। এই দপ্তরের কাজ হলো সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, জবাবদিহিতার অভাব এবং অন্য যেকোনো অনিয়ম খুঁজে বের করা। শ্রম মন্ত্রণালয়ে এই ধরনের তদন্ত চলার প্রেক্ষিতেই শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।
মধ্যপন্থী অবস্থান ও সমন্বয়ের চেষ্টা
ওরেগনের সাবেক কংগ্রেসওম্যান লরি চ্যাভেজ-ডিরেমার ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনামূলক মধ্যপন্থী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যবসায়ী মহল এবং শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় তৈরির চেষ্টা করে তিনি আলোচনায় আসেন। তার মেয়াদকালে কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং শ্রমবাজার সংস্কারের উদ্যোগ প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয় কর্মীদের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, কর্মসংস্থান সুযোগ এবং শ্রমিক অধিকার সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এই মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণ সরাসরি দেশের কোটি কর্মীর জীবনমানকে প্রভাবিত করে। একজন মধ্যপন্থী হিসেবে চ্যাভেজ-ডিরেমার ব্যবসায়ী মহলের স্বার্থ এবং শ্রমিকদের অধিকারের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন, যা তাকে প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যদের চেয়ে আলাদা বানিয়েছিল।
প্রশাসনের অস্থিরতা ও পরবর্তী মনোনয়নের প্রশ্ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার বিদায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের অস্থিরতার আরেকটি ইঙ্গিত। অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ প্রশাসনের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগ যেকোনো প্রশাসনেই ঘটতে পারে, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক মন্ত্রীর পদ ছাড়ার প্রবণতা নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতার ওপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন চলমান নীতিকাঠামোর গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন শ্রম মন্ত্রণালয় অন্তর্বর্তী নেতৃ