যুক্তরাষ্ট্র মহিলা জাতীয় ফুটবল দল পেনসিলভেনিয়ার চেস্টারে ১৮,৬৪৮ দর্শকের সামনে বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে; প্রথমার্ধে ০-২ পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাশলে সাঞ্চেজ ও ম্যালরি সুয়ানসনের গোলেই হার এড়ানো গেছে।
ফলাফলটি হারের লজ্জা থেকে বাঁচালেও ম্যাচের গতিপথ ২০২৭ মহিলা বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সতর্কবার্তা। এই ড্র হয়েছে বিশ্বকাপের ঠিক ২৫৫ দিন আগে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল স্পেনই এখন দশকের পর দশক ধরে নারী ফুটবলে মানদণ্ড হয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত অর্থে ছাড়িয়ে যেতে পারে এমন প্রথম দল।
এর আগে শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতেও স্পেনের কাছে ০-২ গোলে হেরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। টানা দুই ঘরের ম্যাচে হারের পথে থেকে ফেরা অবশ্য দুই তারকার কামব্যাকে সম্ভব হয়েছে।
সাঞ্চেজ ও সুয়ানসনের দীর্ঘ গোলখরার অবসান
৫০তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে অ্যাশলে সাঞ্চেজ গোল করেন, যা ছিল তার ১,৬৪৮ দিন পর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। গার্ডিয়ানের বিবরণ অনুযায়ী, লিন্ডসে হিপসের পাস ধরে সোফিয়া উইলসন এগিয়ে গিয়ে সাঞ্চেজকে বল বাড়ান, আর তিনি ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে স্পেনের গোলরক্ষক মিসা রোদ্রিগেসকে পরাস্ত করেন।
৮৭তম মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেন ম্যালরি সুয়ানসন — আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল আসল ৮০১ দিন পর। ম্যাচের শেষ দিকে ডেবিউটান্ট কেট ডেল ফাভা, মিশেল কুপার ও লিলি ইয়োহানেস নামেন; ইয়োহানেস প্রায় বিজয়সূচক গোলই করে ফেলেছিলেন, কিন্তু রোদ্রিগেস দারুণ সেভ করেন।
স্পেনের গোল আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ভুল
প্রায় ৩০তম মিনিটে নয় পাসের সুন্দর আক্রমণের পর ক্লোজ রেঞ্জ থেকে আলেক্সিয়া পুতেয়াস স্পেনকে এগিয়ে দেন — এটি ছিল তার ৪৩তম আন্তর্জাতিক গোল। ছয় মিনিটের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ফ্যালন টুলিস-জয়সের ভুল পাস ধরে পুতেয়াসের থ্রু বল থেকে সালমা পারালুয়েলো দ্বিতীয় গোলটি করেন।
সেন্টার-ব্যাক নাওমি গিরমা ও মিডফিল্ডার স্যাম কফিকে ছাড়া খেলা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা বারবার উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। অপরদিকে তিনবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী আইতানা বনমাতিসহ কয়েকজনকে ছাড়াই স্পেন বেশির ভাগ সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোচ এমা হেইজ শনিবারের একাদশে চারটি পরিবর্তন এনে টুলিস-জয়স, সাঞ্চেজ, ক্লেয়ার হাটন ও জিসেল থম্পসনকে শুরু করিয়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে হেইজ বলেন, "তারা বিশ্বমানের। আমরা এখনো উন্নতির পথে।" তিনি আরও বলেন, "আমি এমন কিছু শিখিনি যা আমি আগে থেকে জানতাম না।" দুই দলের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "স্কোয়াডের গভীরতার গুরুত্ব এবং খেলোয়াড়দের — বিশেষ করে কম অভিজ্ঞদের — বিকাশ কেমন হচ্ছে, তা আমরা দেখছি।"
২০২৭ মহিলা বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জ
গত ছয় বছরে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনকে হারাতে পারেনি। পজেশনভিত্তিক পজিশনাল প্লে আর গত দশকে ক্লাব ফুটবলে পেশাদারিত্ব ও যুব উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের ফলেই স্পেন বিশ্বের শীর্ষে উঠেছে। চলতি বছর জাপান, ব্রাজিল ও কানাডার মতো শীর্ষ-১০ দলের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ফলাফল ছিল নানা রকমের।
যুক্তরাষ্ট্রের পরের মিশন ২৭ নভেম্বর — টেক্সাসের ম্যানসফিল্ডে কনকাকাফ ডব্লিউ চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টারফাইনালে এল সালভাদোরের মুখোমুখি হবে দলটি। সেই ম্যাচে জিতলেই ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা নিশ্চিত হবে।
তার আগে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে — গিরমা ও কফি ছাড়া উদ্ভাসিত প্রতিরক্ষার ফাটল নভেম্বরের আগে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে কি না। আর আগামী নয় মাসে ফেরত আসা ও নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে হেইজ কেমন দল গড়েন, সেটাই নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।