ঢাকা, ২৮ এপ্রিল: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থ বা অবকাঠামোর ঘাটতি নয়, বরং বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে “গবেষণা থেকে নীতি নির্ধারণ: নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না, যার ফলে সাধারণ মানুষ মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই স্বাস্থ্য খাতে সম্পদের স্বল্পতার কথা বলি। কিন্তু আমার ধারণা, আমাদের যে সম্পদ রয়েছে, আমরা তা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারছি না। আজকের সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত কোনো ব্যয় ছাড়াই প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব।”
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে BRAC James P Grant School of Public Health এবং গবেষণা উদ্যোগ CHORUS। সেমিনারে নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বৈষম্য, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “ঢাকা একটি শহর হলেও এর ভেতরে দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার নিয়ে যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা বিস্ময়কর। স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে আমরা যদি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও সূক্ষ্মভাবে পরিচালনা করতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
ডা. মুহিত আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা শুধু রোগমুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি রোগীর শারীরিক ও মানসিক স্বস্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই একটি সত্যিকারের জনবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে গবেষণালব্ধ তথ্য সরাসরি সরকারি নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়।
সেমিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা নগর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কৌশলগত বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।