ট্যাম্পা, ফ্লোরিডা | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (USF)-এ চলমান একটি ফৌজদারি তদন্ত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় এখন একটি নিশ্চিত ডাবল হোমিসাইড (দুইজনের হত্যাকাণ্ড) মামলায় পরিণত হয়েছে, তাদের রুমমেট গ্রেফতারের পর।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে জামিল লিমন USF-এর একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী, যার মরদেহ এই মাসের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়ার পর ট্যাম্পা বে-এর হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে উদ্ধার করা হয়।
নাহিদা বৃষ্টি বাংলাদেশি আরেক পিএইচডি শিক্ষার্থী, যিনি একই দিনে নিখোঁজ হন। তদন্তকারীরা এখন বিশ্বাস করছেন তিনিও একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
পুলিশ হিশাম সেলিম আবুঘারবিয়া (Hisham Saleh Abugharbieh)-কে গ্রেফতার করেছে, যিনি জামিল লিমনের রুমমেট ছিলেন। ট্যাম্পায় SWAT সহায়তায় এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি বর্তমানে যেসব অভিযোগের মুখোমুখি:
দুইটি ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার (প্রথম ডিগ্রির হত্যা)
প্রমাণ নষ্ট করা (Evidence tampering)
মৃত্যুর খবর না জানানো (Failure to report a death)
অবৈধ আটক (False imprisonment)
ব্যাটারি-সম্পর্কিত অভিযোগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নতুন অভিযোগগুলো দুইজনের মৃত্যুর সাথে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণের ভিত্তিতে আনা হয়েছে।
🕒 তদন্তকারীদের পুনর্গঠিত টাইমলাইন (শেষ ৪৮ ঘণ্টা)
পুলিশের বিশ্লেষণ ও চার্জিং ডকুমেন্ট অনুযায়ী:
~৪৮–৩৬ ঘণ্টা আগে:
যৌথ বাসস্থানের ভেতরে উত্তেজনা ও সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।~৩৬–২৪ ঘণ্টা আগে:
তদন্তকারীদের ধারণা, অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে শারীরিক সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। এই সময়েই সহিংসতার প্রাথমিক লক্ষণ পাওয়া যায়।~২৪ ঘণ্টা আগে (গুরুত্বপূর্ণ সময়):
জামিল লিমনকে শেষবার জীবিত দেখা যায়। নাহিদা বৃষ্টিকে শেষবার USF ক্যাম্পাস বা আশেপাশে দেখা যায়।পরবর্তী সময়:
কর্তৃপক্ষের ধারণা, উভয় শিক্ষার্থীকে একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় হত্যা করা হয়।এরপর:
মরদেহ স্থানান্তর বা গোপন করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যার ফলে জামিল লিমনের মরদেহ ট্যাম্পা বে-এর কাছে উদ্ধার করা হয়।
🔎 সম্ভাব্য উদ্দেশ্য (Motive)
এখনো চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা হয়নি। তবে তদন্তে যেসব বিষয় বিবেচনায় আছে:
রুমমেটদের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ
ঘরোয়া দ্বন্দ্বের সম্ভাব্য সহিংস রূপ নেওয়া
ভুক্তভোগীরা সন্দেহভাজনের পরিচিত ছিলেন—এমন প্রমাণ
কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক বা আদর্শগত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি।
⚖️ মামলার বর্তমান অবস্থা
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস এই ঘটনাকে ডাবল হোমিসাইড তদন্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
প্রসিকিউটররা আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে:
দুইটি ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার অভিযোগ এনেছে
সম্পূর্ণ ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ চলমান রয়েছে।
🎓 বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া
USF কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে যে তারা তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং ও সাপোর্ট সার্ভিস বৃদ্ধি করা হয়েছে।
🧾 সারসংক্ষেপ
যা একটি নিখোঁজ শিক্ষার্থী খোঁজার ঘটনা হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা এখন আন্তর্জাতিক দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর ডাবল মার্ডার মামলায় রূপ নিয়েছে, যেখানে তদন্তকারীরা একটি যৌথ বাসস্থানে ঘটে যাওয়া ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মারাত্মক পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করছেন।