ঝিনাইদহ, ২৬ জুন ২০২৬: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি বলেছেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং এর সুষম বিকাশে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ঝিনাইদহের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আজ ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলার সকল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ নোমান হোসেন।
সাংস্কৃতিক চর্চা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী আরও বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা সমাজ থেকে অন্ধকার ও কুসংস্কার দূর করে আলোর পথ দেখায়। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের যথোপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে।
সাংস্কৃতিক চর্চা বলতে মূলত সংগীত, নাট্য, আবৃত্তি, চিত্রকলা এবং লোকজ শিল্পের চর্চাকে বোঝায়, যা কোনো জনপুঞ্জের পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজস্ব লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ধারা রয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকিয়ে রাখার প্রয়াস চলছে। এই ধরনের চর্চা শুধু শিল্পের উন্নয়নেই সাহায্য করে না, বরং সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ স্থাপনেও ভূমিকা রাখে।
আর্থিক অনুদান বিতরণ
এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন। সরকারি আর্থিক অনুদান সাধারণত স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা, অনুষ্ঠান আয়োজন এবং শিল্পীদের সহায়তায় নির্দেশিত হয়, যা তৃণমূল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুশীলনকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়তা করে।
মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়নে আশ্বাস
মতবিনিময় সভায় ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সুধীজন জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বর্তমান চিত্র, সম্ভাবনা এবং এর উন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক প্রস্তাবনা মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। মন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং ঝিনাইদহের সাংস্কৃতিক অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সাংস্কৃতিক অবকাঠামো বলতে মূলত মঞ্চনাট্যের মঞ্চ, মহড়া কেন্দ্র, লাইব্রেরি, প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যালয় ও প্রশিক্ষণ স্থানকে বোঝায়। এসব সুবিধা উন্নত হলে স্থানীয় শিল্পী ও সংগঠকদের কাজ আরও সহজ ও পেশাদার হবে। ঝিনাইদহের মতো ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলে সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন শুধু শিল্পীদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সাধ