ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম ও ঢাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাযা সম্পন্ন — লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও শোকে শেষ বিদায়

13 1 min read fb x
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাযা সম্পন্ন — লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও শোকে শেষ বিদায়
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাযা সম্পন্ন — লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও শোকে শেষ বিদায়

ঢাকা/চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার — বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাযা আজ রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই শহরেই লাখো মানুষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মী, সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পৃথক জানাযা অনুষ্ঠানে শোকের আবহে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ নীরবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

চট্টগ্রাম নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল ১১টায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে।

জানাযায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হাজারো সাধারণ মানুষ। হাজারো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

জানাযা শেষে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য পারিবারিক গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তিনি প্রয়াত নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন একটি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

সিপিবির সাবেক সভাপতি শাহ আলম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান এবং সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও তাকে স্মরণ করেন। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়নে তার অবদান তুলে ধরেন।

এর আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জানাযায়ও হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত জানাযায় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। শোকের আবহে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ১৩ মে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আওয়ামী লীগের ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সেক্টর-১ এর অধীনে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চট্টগ্রামসহ সারাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন অবদান রাখেন।

প্রয়াত নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজ আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত শোকের দিন। আমাদের বাবা দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”

প্রয়াত নেতার একমাত্র কন্যা আমেরিকান প্রবাসী ডা. সামিনা আজম অভিযোগ করেছেন যে, তার বাবা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় “হাসপাতাল-অর্জিত সংক্রমণ” (hospital-acquired infection) এর কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি US Bangla Tribune-এর সঙ্গে এক ফোনালাপে বলেন, “আমার জন্য এটা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিল যে আমি আমার বাবাকে হাসপাতাল-অর্জিত সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর দিকে যেতে দেখেছি, বিশেষ করে যখন মাত্র দেড় মাস আগেও তিনি প্রতিদিন এক ঘণ্টা ব্যায়াম করতেন এবং তার দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল শারীরিক অবস্থার মধ্যেও তিনি মোটামুটি সুস্থ ছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবার শারীরিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সংক্রমণ পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

হাসপাতাল-অর্জিত সংক্রমণ হলো এমন সংক্রমণ যা একজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হন, যদিও ভর্তি হওয়ার সময় তার শরীরে সেই সংক্রমণ ছিল না।

এই সংক্রমণ সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাসের মাধ্যমে হতে পারে এবং ছড়াতে পারে—

  • চিকিৎসা সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতির মাধ্যমে

  • অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে

  • দূষিত পৃষ্ঠের সংস্পর্শে এসে

  • হাসপাতালের দুর্বল স্বাস্থ্যবিধির কারণে

  • অথবা হাসপাতালে থাকা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে

এর সাধারণ উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • নিউমোনিয়া

  • ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)

  • রক্তপ্রবাহ সংক্রমণ

  • অস্ত্রোপচারের ক্ষত সংক্রমণ

প্রয়াত নেতার জীবনের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি তুলে ধরে তাঁর মেয়ে ডা. সামিনা আজম বলেন—“আমার বাবা আমার একমাত্র মেয়ে আরাকে খুব ভালোবাসতেন। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি আমাকে শেষ যে কথা বলেন তা ছিল— ‘আরা কোথায়? আমার আরা’।”

তিনি আরও বলেন, তার বাবাকে নিয়ে তার শৈশবের একটি ঘটনা তার জীবনের বড় শিক্ষা হয়ে সাড়া জীবন বেঁচে থাকবে।

তিনি বলেন, “আমি তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। ডি সি হিলে একজন পুলিশ একজন মহিলার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিল। আমি রেগে গিয়ে বাসায় এসে বাবাকে বলি এবং বলি— ‘তুমি ডি সিকে ফোন করে ওই পুলিশকে চাকরি থেকে বের করে দাও।’”

তিনি বলেন, তার বাবা তখন তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে ডিসি অফিসে ফোন করেন এবং তাকে নিজে কথা বলতে বলেন “এখন তুমি কথা বলো, নিজের নামে বলো, আমার নাম ব্যবহার কোরো না।”

এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন—“জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং কখনো অন্যের নাম ব্যবহার করে কাজ করা উচিত নয়।”

জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক মর্যাদায় তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপস্থিত হাজারো মানুষ দীর্ঘ সময় নীরবে তার জন্য দোয়া করেন।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বলে বিশিষ্টজনরা মন্তব্য করেন।

দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

Join our facebook page: (Click Below) https://www.facebook.com/share/1Cc6EyQXue/?mibextid=wwXIfr

সম্পর্কিত সংবাদ

Advertisement

Advertisement


ধন্যবাদ!

আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর পাঠানো হবে।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইমেইলে পান।

যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।