জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সমর্থনপুষ্ট এলডিপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) ওলী আহমদের মধ্যে লড়াই চলছে এই নির্বাচনে। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে তাঁদের ভোট প্রদান করছেন। দ্য ডেইলি স্টার অনুসারে, ভোটগ্রহণ তিন ঘণ্টা ধরে চলবে এবং বিকেল ৫টার পর গণনা শুরু হবে।
নির্বাচনের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, যিনি এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সংসদ সদস্যদের কাছে দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তিনি ভোটগ্রহণের পদ্ধতিও ব্যাখ্যা করেন। সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। তিনি আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ করেন ভোট দেওয়ার সময় সম্পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করতে।
ভোটগ্রহণের ধারাবাহিকতা ও গণনা
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের ১০(১) ধারা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রদত্ত ভোটের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আইনপ্রণেতারা ভোটগ্রহণ এবং গণনার সময় সংসদ কক্ষের ভেতরে উপস্থিত থাকতে পারেন।
সিইসি জানান, বিকেল ৫টার পর ভোট গণনা শুরু হবে। সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে সংসদ কক্ষেই প্রাথমিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এর পরে আনুষ্ঠানিক গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। ভোটগ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
বিশিষ্ট নেতাদের ভোট প্রদান
ভোটগ্রহণের ক্রম অনুসারে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর ভোট প্রদান করেন। এর পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি তাঁদের ভোট প্রদান করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের ভোট প্রদানের পর বিরোধী দলের নেতাদের সাথে হাত মেলান।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল, বিএনপি নেতা সেলিমা রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, নিপুন রায় চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আমান উল্লাহ আমানও তাঁদের ভোট প্রদান করেন।
বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধী দলের উপনেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আখতার হোসেন এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং তাঁদের ভোট প্রদান করেন।
পটভূমি: শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নির্বাচন
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নির্বাচন কমিশন আজকের এই নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করেছিল। তাঁর পদত্যাগের কারণে সৃষ্ট শূন্যপদ পূরণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনিই প্রথম ভোট প্রদান করেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি প্রথা সংসদীয় গণতন্ত্রের অধীনে একটি আনুষ্ঠানিক পদ হলেও, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব অপরিসীম। সংসদ সদস্যদের ভোটে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ১৯৯১ সালের আইন দ্বারা নির্ধারিত।
কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ
এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা দলের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। অন্যদিকে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সমর্থনপুষ্ট ওলী আহমদের প্রার্থিতা রাজনৈতিক জোটের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজের জন্যও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাষ্ট্রপতি পদে কে নির্বাচিত হবেন তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনার দিকনির্দেশ সম্পর্কে ধারণ