আল্ মামুন, যুক্তরাষ্ট্র | ১৯ জুলাই ২০২৬: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় একটি পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি আফরোজা খানম রিতা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন নিয়ে তিল্লী ইউনিয়নে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিল্লী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী তিল্লী বাজার সংলগ্ন ব্রিজের দক্ষিণ পাশে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক, ব্যবসায়ী, সমাজের বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের মতে, তিল্লী বাজারের ব্রিজের দক্ষিণ পাশের স্থানটি ভৌগোলিক, যোগাযোগ ও শিক্ষাগত দিক থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত। তাদের দাবি, এ স্থানটি মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া, দৌলতপুর ও ঘিওর—এই চারটি উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। ফলে এখানে পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে চার উপজেলার হাজারো শিক্ষার্থী সহজেই উপকৃত হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিল্লী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবহেলিত। অতীতে এ অঞ্চলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো অন্যত্র চলে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের অবস্থানকেও তারা সেই বঞ্চনার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, এবার পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজটি যদি তিল্লী বাজারের ব্রিজের দক্ষিণ পাশে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য অনেকটাই দূর হবে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তিল্লী ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত কোনো বড় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উল্লেখযোগ্য সরকারি স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। তাই এখানে একটি আধুনিক পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু তিল্লী ইউনিয়নের নয়, দক্ষিণ আয়নাপুর, উত্তর আয়নাপুর, পাঁচুটিয়া এবং আশপাশের বহু গ্রামের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে দক্ষ জনশক্তি তৈরির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বাসিন্দারা আরও মনে করেন, প্রতিষ্ঠানটি এখানে স্থাপিত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে তারা আশা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ দাবির পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে উঠেছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা লিখেছেন, অতীতে ঐক্যের অভাব এবং দুর্বল নেতৃত্বের কারণে তিল্লী ইউনিয়নের ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একত্রিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী তিল্লী বাজারের ব্রিজের দক্ষিণ পাশে পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ পর্যন্ত সরকার পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, পর্যাপ্ত জমির প্রাপ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ইউএস বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, তারা এ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের যৌক্তিক দাবি, মতামত ও প্রত্যাশা নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে তারা ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখবে।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, ঐতিহ্যবাহী তিল্লী বাজারের ব্রিজের দক্ষিণ পাশে পলিটেকনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু সাটুরিয়া উপজেলাই নয়, আশপাশের চারটি উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্যও কারিগরি শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।