ঢাকা, ০৪ মে ২০২৬: ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নেতৃত্বাধীন সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে, পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি সোমবার রাজধানীর Radisson Blu Water Garden Dhaka-এ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ICIMOD) আয়োজিত "হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজন সমাধান (HI-CAS)" শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
"রেইনবো নেশন" গড়ার লক্ষ্য
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি "রেইনবো নেশন" গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য ও ঐক্য নিশ্চিত করা হবে। ধর্ম, জাতি বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে—এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত দূরদর্শী। তিনি চান পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলাই সরকারের অগ্রাধিকার।
জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে এবং খরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এ বাস্তবতায় কৃষি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সমতলের তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সেখানে আরও স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। পাহাড়ি কৃষিব্যবস্থা প্রকৃতির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, ফলে বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত ধরন ও দীর্ঘস্থায়ী খরা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে কৃষি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিকল্প পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
তিনি আশ্বাস দেন, দেশি-বিদেশি যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ যা পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, সরকার তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী Dipen Dewan। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ICIMOD প্রকল্পের প্রতিনিধি, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পরিষদ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) এবং উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ICIMOD হিন্দু কুশ হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশজুড়ে কাজ করে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গবেষণা ও নীতি পরামর্শ প্রদান করে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু অভিযোজন ও উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে ICIMOD-এর সহযোগিতা