ঢাকা | ৪ মে, ২০২৬
জাতীয় জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান বর্তমান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬–৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। আজ সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন ২০২৬’-এর প্রথম অধিবেশনে তিনি এই রূপকল্প তুলে ধরেন।
অধিবেশন চলাকালীন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ের প্রশাসকদের কাছে পর্যটন খাতের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। সারা দেশে চিহ্নিত ১,৭৪২টি পর্যটন স্পটকে কেন্দ্র করে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, পর্যটন খাতকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অধিবেশনে মানিকগঞ্জের বালিয়াটি প্রাসাদ ও তেওতা প্রাসাদকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। জেলা প্রশাসকদের নতুন পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা এবং পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন:
"দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যটনের সম্ভাবনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আপনাদের (ডিসিদের) দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে আমরা এই খাতকে বিশ্ব দরবারে সফলভাবে তুলে ধরতে পারি।"
প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, "আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ জেলায় পরিবর্তনের অগ্রদূত হতে পারেন। কেবল একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পর্যটন পরিবেশই একটি জেলার অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে।"
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি। এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
দেশের পর্যটন এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।