| ০২ মে, ২০২৬
আসন্ন জাতীয় বাজেটে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। একইসাথে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলাকে পাঠ্যবইয়ের সমান্তরালে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (০২ মে) দিনব্যাপী চট্টগ্রামে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে আয়োজিত এক 'শিক্ষক সমাবেশ'-এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবারের সংসদের সমাপনী বক্তব্যে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে একটি বার্তা দিয়েছেন—আমাদের আগামীর পথচলায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত থাকবে অগ্রাধিকারের শীর্ষে। একটি সুস্থ এবং শিক্ষিত জাতি ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তাই আসন্ন বাজেটে এই দুই খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে।"
শিক্ষক সমাবেশের পর বিকেলে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘নতুনকুড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির মূল উদ্বোধন সিলেট থেকে একযোগে দেশব্যাপী ঘোষণা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আহবায়ক ও চট্টগ্রাম-০৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-০৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন।
নতুনকুড়ি স্পোর্টস-এর উদ্বোধনী মঞ্চে এবং শিক্ষক সমাবেশে খেলাধুলার বহুমুখী উপকারিতা তুলে ধরে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, "তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করতে এখন থেকেই ক্রীড়াকে আবশ্যিক কারিকুলাম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।"
নতুন এই শিক্ষা কারিকুলামে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, বরং নিচের বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে:
• মানসিক ও মেধা বিকাশ: দাবা, কুইজ এবং সৃজনশীল মেধা যাচাই।
• শারীরিক সক্ষমতা: ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি এবং নিয়মিত শারীরিক কসরত।
• সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক চর্চা: মিউজিক ও বিভিন্ন সৃজনশীল অ্যাক্টিভিটিস।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা এমন এক প্রজন্ম গড়তে চাই যারা কেবল ডিগ্রিধারী হবে না, বরং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে। আমাদের লক্ষ্য হলো 'স্কিল বেইজড' (দক্ষতা নির্ভর) এবং 'নলেজ বেইজড' (জ্ঞান নির্ভর) শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা। এর ফলে বেসিক এডুকেশনের সাথে নৈতিক শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটবে, যা তাদের বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।"
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "পৃথিবীর খুব কম দেশকেই আমাদের মতো জটিল ফান্ড ম্যানেজমেন্ট করতে হয়। তবে আল্লাহর রহমত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দক্ষ মন্ত্রিপরিষদের বিচক্ষণতার কারণে আমরা সংকটের মধ্যেও শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।"
উভয় অনুষ্ঠানেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যারা সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলোকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।