ঢাকা, ২১ মে ২০২৬: বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ আলহমুদি বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তৃতীয় টার্মিনালে dnata-এর আগ্রহ
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এভিয়েশন সেবা প্রতিষ্ঠান dnata-এর পক্ষ থেকে Hazrat Shahjalal International Airport-এর তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং হলো বিমানবন্দরে বিমানের যাত্রীবাহী সেবা, ব্যাগেজ পরিচালনা, ক্যাটারিং, ফুয়েলিং এবং অন্যান্য ভূমিস্তরের সেবা প্রদানের সামগ্রিক প্রক্রিয়া। এই সেবার মান বিমানবন্দরের পরিচালনা দক্ষতা ও যাত্রীসেবার মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। dnata বিশ্বের অন্যতম পরিচিত এভিয়েশন সেবা প্রতিষ্ঠান, যা বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও কার্গো সেবা প্রদান করে আসছে।
ORAT কার্যক্রমের অগ্রগতি
জবাবে প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। তিনি জানান, টার্মিনালের Operational Readiness and Airport Transfer (ORAT) কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং পরবর্তী অগ্রগতি জানাবে।
ORAT হলো একটি পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নতুন বা সম্প্রসারিত বিমানবন্দর টার্মিনাল পূর্ণ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত করা হয়। এই কার্যক্রমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন ব্যবস্থা, সরঞ্জাম ও জনবল পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় যে টার্মিনাল নির্বিঘ্নে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
সেবার মান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার
মন্ত্রী আফরোজা খানম বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নয়ন এবং দেশের বিমান পরিবহন অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইউএই রাষ্ট্রদূত বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বিমান চলাচল এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াতের কারণে এই খাতের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তৃতীয় টার্মিনালে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালনা দক্ষতা ও যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।