আর্কাইভ ভিডিও ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ
● ‘স্টার ট্রেক’ ও ‘এক্স-মেন’ খ্যাত প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন, বয়স হয়েছিল ৮৬ ● মাকে ‘বাসায় আসছি’ বার্তার পর তুরাগে মিলল তাহসিফ সৌরীর লাশ, মোটরসাইকেল নিখোঁজ ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট স্কোর: ৫৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২-এ অলআউট বাংলাদেশ ● চট্টগ্রাম বন্দরে তামাক আটক: কেজিতে ঘোষিত দাম ১ দশমিক ৪৫, শুল্কায়ন ৫ দশমিক ১০ ডলার ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট: ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান, প্রথম দিনে ২১৩/৩ ● মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: জাতীয় জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটে কঠিন লড়াই ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট: মিরপুরে দুই ম্যাচই জেতার লক্ষ্য রোস্টন চেজের ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট: ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশ ২১৩/৩ ● ‘স্টার ট্রেক’ ও ‘এক্স-মেন’ খ্যাত প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন, বয়স হয়েছিল ৮৬ ● মাকে ‘বাসায় আসছি’ বার্তার পর তুরাগে মিলল তাহসিফ সৌরীর লাশ, মোটরসাইকেল নিখোঁজ ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট স্কোর: ৫৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭২-এ অলআউট বাংলাদেশ ● চট্টগ্রাম বন্দরে তামাক আটক: কেজিতে ঘোষিত দাম ১ দশমিক ৪৫, শুল্কায়ন ৫ দশমিক ১০ ডলার ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট: ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান, প্রথম দিনে ২১৩/৩ ● মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: জাতীয় জরিপে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটে কঠিন লড়াই ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট: মিরপুরে দুই ম্যাচই জেতার লক্ষ্য রোস্টন চেজের ● বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট: ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশ ২১৩/৩
বিনোদন

‘স্টার ট্রেক’ ও ‘এক্স-মেন’ খ্যাত প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন, বয়স হয়েছিল ৮৬

প্রয়াত ব্রিটিশ অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট, স্টার ট্রেকের ক্যাপ্টেন পিকার্ড ও এক্স-মেনের প্রফেসর এক্স
প্রতীকী ছবি। ছবি: Av E/Pexels

‘স্টার ট্রেক’-এর ক্যাপ্টেন পিকার্ড ও ‘এক্স-মেন’-এর প্রফেসর এক্স চরিত্রের অভিনেতা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন। বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাড়িতে ৮৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর প্রতিনিধিদের দেওয়া বিবৃতির বরাতে ডেডলাইন ও দ্য হলিউড রিপোর্টার জানিয়েছে, আলঝেইমার ও লুই বডি ডিমেনশিয়ায় ভুগে তিনি মারা যান। দ্য হলিউড রিপোর্টার জানায়, বিবৃতিটি ঘোষণা করেন তাঁর দীর্ঘদিনের মুখপাত্র কেলি বুশ নোভাক।

প্রায় ছয় দশকের ক্যারিয়ারে স্টুয়ার্ট ইংল্যান্ডের ধ্রুপদি মঞ্চ থেকে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় বিজ্ঞান-কল্পকাহিনির তারকা হয়ে উঠেছিলেন। সেই খ্যাতি এসেছিল অনেক দেরিতে, ৪৭ বছর বয়সে। মৃত্যুর পরও তাঁর একটি কাজ মুক্তির অপেক্ষায় আছে। ১৮ ডিসেম্বর ২০২৬ মুক্তি পেতে যাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ছবিতে অষ্টমবারের মতো প্রফেসর এক্স চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে।

প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মৃত্যু কীভাবে হলো

প্রতিনিধিদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি, স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট গতকাল লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী সানির স্নেহময় পরিচর্যায় মারা গেছেন। আলঝেইমার রোগ ও লুই বডি ডিমেনশিয়ার সঙ্গে স্বল্প ও মর্মস্পর্শী এক যাত্রার পর তাঁর মৃত্যু হলো।’ ডেডলাইন বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে।

‘পরিবার ও বন্ধুদের উষ্ণ আলিঙ্গনে তিনি ছিলেন। চারপাশে ছিল সরাসরি পরিবেশিত সংগীত, প্রার্থনা, কান্না, হাসি আর এমন গভীর আবেগ, যা আমাদের সবার প্রতি আজীবন নিবেদনের পর কেবল তিনিই জাগাতে পারতেন।’ — কেলি বুশ নোভাক

রোগ কবে শনাক্ত হয়েছিল, বিবৃতিতে তা জানানো হয়নি। শেষকৃত্য বা স্মরণসভার পরিকল্পনাও এখনো জানা যায়নি।

৪৭ বছর বয়সে ‘অচেনা শেক্সপিয়রীয় অভিনেতা’ থেকে স্টার ট্রেক ক্যাপ্টেন পিকার্ড

দ্য হলিউড রিপোর্টার জানায়, আশির দশকের শেষ ভাগে ইংল্যান্ডে কয়েক দশকের ধ্রুপদি নাট্যচর্চা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে স্টুয়ার্ট প্রায় অপরিচিত ছিলেন। ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এর প্রযোজক রবার্ট জাস্টম্যান ইউসিএলএর এক বক্তৃতায় তাঁকে শেক্সপিয়র পাঠ করতে দেখে অডিশনে ডাকেন।

পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, ‘স্টার ট্রেক’-এর স্রষ্টা জিন রডেনবেরি শুরুতে মনে করতেন না যে ‘এক টাকমাথা ব্রিটিশ’ নতুন সিরিজের মুখ হতে পারেন। দ্য হলিউড রিপোর্টার আরও জানায়, তাঁকে নেওয়ার খবর ঘোষণা করতে গিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস তাঁকে ‘অচেনা ব্রিটিশ শেক্সপিয়রীয় অভিনেতা’ বলে উল্লেখ করেছিল।

সিরিজটি যে টিকবে না, সেই ধারণা নিয়েই চুক্তিতে সই করেছিলেন বলে ২০১০ সালে স্মরণ করেন স্টুয়ার্ট। ‘সবাই ভেবেছিল উইলিয়াম শ্যাটনার ও লিওনার্ড নিময়ের স্টার ট্রেকের মতো একটি কিংবদন্তি সিরিজকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা পাগলামি। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই আমি ছয় বছরের চুক্তিতে সই করি,’ বলেন তিনি।

১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে, স্টুয়ার্টের ৪৭তম জন্মদিনের দুই মাস পর সিরিজটির প্রচার শুরু হয়। দ্য হলিউড রিপোর্টার জানায়, শুরুতে ভক্তদের মন জয়ে হোঁচট খেলেও ১৯৯০ সালে তৃতীয় মৌসুমের শেষ পর্ব ‘বেস্ট অব বোথ ওয়ার্ল্ডস’ দিয়ে সিরিজটি সাফল্যের শীর্ষে ওঠে। সেটিই ছিল স্টার ট্রেকের ইতিহাসে প্রথম ক্লিফহ্যাঙ্গার।

সহশিল্পীদের নিয়ে ২০১৩ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘ওরা আমাকে শিখিয়েছিল, ভালো কাজ করা আর ভালো সময় কাটানো একসঙ্গেই সম্ভব।’

সাত মৌসুম পর ১৯৯৪ সালে সিরিজটি শেষ হয়। শেষ মৌসুমে সেরা ড্রামা সিরিজ বিভাগে এমি মনোনয়ন পায় সিরিজটি। এর ধারাবাহিকতায় চারটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়:

  • স্টার ট্রেক: জেনারেশনস (১৯৯৪)
  • স্টার ট্রেক: ফার্স্ট কন্ট্যাক্ট (১৯৯৬)
  • স্টার ট্রেক: ইনসারেকশন (১৯৯৮)
  • স্টার ট্রেক: নেমেসিস (২০০২)

পরে প্যারামাউন্ট প্লাসের ‘স্টার ট্রেক: পিকার্ড’ সিরিজে আবার একই চরিত্রে ফেরেন তিনি। ডেডলাইন জানায়, এ জন্য বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি/ফ্যান্টাসি সিরিজে সেরা অভিনেতা বিভাগে ক্রিটিকস চয়েস সুপার অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সিরিজটির তৃতীয় ও শেষ মৌসুম শেষ হয়।

এক্স-মেন অভিনেতা হিসেবে প্রফেসর এক্স, পাশে বন্ধু ইয়ান ম্যাককেলেন

দ্য হলিউড রিপোর্টার জানায়, স্টার ট্রেকের কারণে একই ধরনের চরিত্রে আটকে পড়ার কথা স্বীকার করতেন স্টুয়ার্ট। তাই ২০০০ সালের ‘এক্স-মেন’-এ চার্লস জেভিয়ার বা প্রফেসর এক্স চরিত্রের প্রস্তাব পেয়ে দ্বিধায় ছিলেন। ছবিটি সুপারহিরো সিনেমার নতুন যুগের সূচনায় ভূমিকা রাখে।

সেখানে খলনায়ক ম্যাগনিটোর চরিত্রে ছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ইয়ান ম্যাককেলেন। মঞ্চেও দুজন একসঙ্গে কাজ করেছেন। ডেডলাইনের তথ্যমতে, হ্যারল্ড পিন্টারের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ড’ ও স্যামুয়েল বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গডো’র রেপার্টরি প্রযোজনায় তাঁরা অভিনয় করেন।

পরে ‘এক্স২: এক্স-মেন ইউনাইটেড’ (২০০৩), ‘এক্স-মেন: দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ (২০০৬), ‘এক্স-মেন: ডেজ অব ফিউচার পাস্ট’ (২০১৪) ও ‘লোগান’ (২০১৭)-এ একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ‘এক্স-মেন অরিজিনস: উলভারিন’ (২০০৯) ও ‘দ্য উলভারিন’ (২০১৩)-এ ছিল তাঁর অতিথি উপস্থিতি।

২০২৬ সালে আমাজন এমজিএম স্টুডিওসের কমেডি ‘দ্য শিপ ডিটেকটিভস’-এ স্যার রিচফিল্ড নামের ভেড়ার চরিত্রে কণ্ঠ দেন তিনি। ডেডলাইন জানায়, ছবিটিতে হিউ জ্যাকম্যানের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

মঞ্চে তিনবার অলিভিয়ে, রয়্যাল শেক্সপিয়র কোম্পানিতে ৬০টির বেশি প্রযোজনা

ডেডলাইনের তথ্য অনুযায়ী, স্টুয়ার্ট তিনবার অলিভিয়ে পুরস্কার জিতেছেন এবং টনি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছেন। এমি, গোল্ডেন গ্লোব ও স্যাগ পুরস্কারে একাধিকবার মনোনীত হয়েছেন তিনি।

প্রথম অলিভিয়ে আসে ১৯৭৯ সালে ‘অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা’র জন্য। ডেভিড টেন্যান্টের বিপরীতে ‘হ্যামলেট’-এ ক্লডিয়াস চরিত্রেও অলিভিয়ে পান তিনি। রয়্যাল শেক্সপিয়র কোম্পানির ৬০টির বেশি প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অনারারি অ্যাসোসিয়েট আর্টিস্ট হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। ‘ম্যাকবেথ’-এর জন্য পেয়েছেন টনি মনোনয়ন।

পর্দায় তাঁর অন্যান্য কাজের মধ্যে আছে ‘ডিউন’, ‘এল.এ. স্টোরি’, ‘গ্রিন রুম’, ‘রবিন হুড: মেন ইন টাইটস’। ‘ফ্যামিলি গাই’, ‘আমেরিকান ড্যাড’ ও ‘দ্য প্রিন্স অব ইজিপ্ট’-এ কণ্ঠ দিয়েছেন। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা ‘মেকিং ইট সো’ নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার তালিকায় জায়গা পায়। বইটিতে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা আছে। তাঁর নিজের কণ্ঠে পড়া অডিওবুক সংস্করণ অডি অ্যাওয়ার্ডসে আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা বিভাগে সম্মাননা পায়।

‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ১৮ ডিসেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর ছবিটির মুক্তি বা প্রচারে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।



ধন্যবাদ!

আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর পাঠানো হবে।

নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইমেইলে পান।

যেকোনো সময় আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন।