ওয়াশিংটন/আঙ্কারা, ৮ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি (সিজফায়ার) কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে আজ রাতেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ব্যাপক সামরিক হামলা চালাবে।
ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নয়। ইরান যদি তাদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র "আজ রাতেই তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানবে।"
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার সূত্রপাত
সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু হয় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগল ও ওমান উপসাগলের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। এই অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধির ফলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও প্রভাবিত হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি ইতিমধ্যে বিভিন্ন চাপের মুখে রয়েছে — এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম বৃদ্ধি মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ অনিশ্চিত
তবে আজ রাতের সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় বা পরিধি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরানি সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছালে তা স্থানীয় পরিসরের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উপসাগলীয় দেশগুলোর জন্য এই উত্তেজনা সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি বহন করে।