বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ৯৯ ভোটে।
সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৯০টি দেশ ভোটে অংশগ্রহণ করে। সাইপ্রাসের বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস ৯১ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত এই কোটায় বাংলাদেশ এবং সাইপ্রাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছিল।
সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি ও জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক তাঁর বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ড. খলিলুর রহমান আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ৮১তম অধিবেশন শুরু হলে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ গ্রহণ করবেন এবং এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশের ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয় সভাপতি
এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার যখন কোনো বাংলাদেশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন তাঁর লক্ষ্য
বিজয়ের পর ড. খলিলুর রহমান বলেন, "বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নানা সংকট ও সংঘাতের কারণে জাতিসংঘের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আজ চ্যালেঞ্জের মুখে। আমি সব সদস্য দেশকে সাথে নিয়ে এই আস্থা পুনর্গঠন এবং একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করব।"
তাঁর প্রধান অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে রয়েছে:
- শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দ্বন্দ্ব নিরসন — বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ থামানো এবং আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা
- গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর — উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার আদায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন
- শান্তিরক্ষা মিশনে নারী — জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা
বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনীতিতে দেশের ক্রমবর্ধমান ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির চরম উত্তেজনার এই সময়ে এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।