নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ফোর্থ অব জুলাই আতশবাজির প্রদর্শনীর সময় নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ব্রুকলিন ব্রিজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনের শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যায় নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (FDNY)-এর একাধিক ইউনিট।
ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় ১০টার দিকে, যখন ম্যাসির (Macy's) স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনী চলছিল। আগুন লাগার পরপরই দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ব্রিজ বন্ধ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় ব্রুকলিন ব্রিজ সাধারণ মানুষের জন্য আগেই বন্ধ রাখা হয়েছিল, কারণ সেখান থেকেই আতশবাজির প্রদর্শনী পরিচালিত হচ্ছিল। ফলে কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ব্রুকলিন ব্রিজ নিউইয়রক শহরের অন্যতম পরিচিত স্থলপ্রতীক। ১৮৮৩ সালে চালু হওয়া এই সাসপেনশন ব্রিজ ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। প্রতি বছর চতুর্থ জুলাইয়ের উদযাপনে এই ব্রিজ এবং আশপাশের এলাকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাসির আতশবাজি প্রদর্শনী যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে পুরনো স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানগুলোর একটি, যা প্রতি বছর ইস্ট নদীর উপর দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
আতশবাজিই কি আগুনের কারণ?
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগুনটি আতশবাজির প্রদর্শনীর সময় শুরু হলেও এখনও নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি যে আতশবাজিই আগুনের কারণ। FDNY-এর একজন মুখপাত্র জানান, বড় ধরনের আতশবাজির প্রদর্শনীর সময় ছোটখাটো আগুন লাগা অস্বাভাবিক নয়। এ কারণেই এমন অনুষ্ঠানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হয়।
বড় আকারের আতশবাজি প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়। ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ইউনিট সবসময় প্রস্তুত রাখা হয়, যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানো সম্ভব হয়। এই ক্ষেত্রেও সেই প্রস্তুতি কাজে এসেছে।
তদন্ত ও কাঠামোগত পরীক্ষা চলছে
বর্তমানে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এবং ব্রুকলিন ব্রিজের কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ব্রুকলিন ব্রিজ একটি ঐতিহাসিক কাঠামো, যা জাতীয় ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক হিসেবে স্বীকৃত। এর কাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার পর আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়।