ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক | নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (NYPD) শহীদ কর্মকর্তা ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম-এর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ব্রঙ্কসের সাউন্ডভিউ এলাকায় একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে "Detective First Grade Didarul Islam Way"। শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) অনুষ্ঠিত আবেগঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দিদারুল ইসলামের পরিবার, সহকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং এনওয়াইপিডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ অনুষ্ঠানে বলেন, দিদারুল ইসলাম শুধু একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না—তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী, পিতা এবং কমিউনিটির গর্ব। তাঁর নাম এখন নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
কীভাবে নিহত হন দিদারুল ইসলাম?
২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছিলেন দিদারুল ইসলাম। সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ২৮ মিনিটে লাস ভেগাসের ২৭ বছর বয়সী বন্দুকধারী শেন ডেভন তামুরা (Shane Devon Tamura) একটি AR-15 ধাঁচের রাইফেল নিয়ে ভবনের লবিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
তদন্ত অনুযায়ী, হামলাকারীর প্রথম প্রাণঘাতী গুলির শিকার হন দিদারুল ইসলাম। পরে ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। ভবনের ৩৩তম তলায় উঠে বন্দুকধারী শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে। তদন্তে জানা যায়, সে বিশ্বাস করত যে ফুটবল খেলার কারণে সৃষ্ট মস্তিষ্কের রোগ CTE (Chronic Traumatic Encephalopathy)-তে ভুগছিল এবং সেই ক্ষোভ থেকেই মূলত NFL-কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তে তার CTE থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
বাংলাদেশি অভিবাসী থেকে এনওয়াইপিডির বীর কর্মকর্তা
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া দিদারুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পর এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং প্রায় চার বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ মৃত্যুর পর তাঁকে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর সময় স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন; পরে তাঁদের আরেক সন্তানের জন্ম হয়। সড়ক নামকরণ অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো অনুষ্ঠানকে আবেগঘন করে তোলে।
স্মৃতির প্রতি নিউইয়র্কের শ্রদ্ধা
স্থানীয় নেতারা বলেন, এই সড়কের নামকরণ শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সম্মান জানানো নয়—এটি একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান অভিবাসীর সাহস, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। এখন থেকে ব্রঙ্কসের এই সড়ক দিদারুল ইসলামের বীরত্বের স্মারক হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।