রাউন্ড অব ১৬-এ ব্রাজিলের বিদায়, নরওয়ের ইতিহাস
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এ নরওয়ে ফুটবল দল দুর্দান্ত এক চমক উপহার দিয়ে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই জয় নরওয়ের ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। নকআউট পর্বে এমন একটি বড় দলকে হারানো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির জন্য অভাবনীয় সাফল্য।
নরওয়ের জয়ের নায়ক ছিলেন তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর শেষ দিকে তিনি জোড়া গোল করে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেন। ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড নিজের ক্লাব ফর্ম বিশ্বমঞ্চেও অব্যাহত রেখেছেন।
ব্রাজিলের ছোঁড়া সুযোগ, নরওয়ের সুশৃঙ্খল রক্ষণ
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। তবে মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারায়েসের নেওয়া পেনাল্টি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড। শুরুতেই একটি গোলে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে নরওয়ে ম্যাচে ভারসাম্য ধরে রাখে।
নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের আক্রমণে ব্রাজিল বলের দখলে আধিপত্য দেখালেও নরওয়ের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আমেরিকান দলটি বারবার আক্রমণ গড়লেও শেষ তৃতীয়ে কার্যকর ব্যবহা করতে পারেনি।
অবশেষে ৭৯তম মিনিটে হালান্ড হেডের মাধ্যমে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। এরপর ৮৯তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে আরেকটি গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই ফরোয়ার্ড। দুটি গোলই ম্যাচের শেষ পর্যায়ে এসে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে চাপ বাড়িয়েছিল।
ইনজুরি সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও তা ব্রাজিলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। সময় ফুরিয়ে আসায় ব্রাজিলের জন্য আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ড
এই জয়ের মাধ্যমে নরওয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল এবং তারা এখন মেক্সিকো ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। নরওয়ের জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা — বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছানো দেশটির ফুটবলে এক নতুন মাইলফলক।
ব্রাজিলের জন্য এটি আরেকটি হতাশাজনক নকআউট পর্বের বিদায়। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামলেও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারা এবং শেষ দিকে রক্ষণভাগের ভুল তাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে। ব্রাজিল শেষ বিশ্বকাপ জয় পায় ২০০২ সালে, এবং এরপর প্রতিবারই তাদের টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে হতাশার মধ্য দিয়ে।
অন্যদিকে, নরওয়ে তাদের স্বপ্নের বিশ্বকাপ যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। হালান্ড টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করলেন এবং দেশকে ঐতিহাসিক সেমিফাইনালের আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে গেলেন।