শনিবার মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশকে আট উইকেটে পরাজিত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়াতে নেমে ২ উইকেটে ১৭০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ ক্রিকেট সিরিজ ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং সফরকারী স্পিনারদের দাপটই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।
প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দল সফরকারীদের জন্য একটি সামান্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার পর লড়াই করতে ব্যর্থ হয়। ৩৫.১ ওভারের মধ্যেই ২ উইকেটে ১৭০ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান সংগ্রহ করেছিল। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৫ রান করে, যার ফলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের সামান্য লিড পায়। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন নাঈম হাসান। এছাড়া জাকির হাসান ২২ রান করেন। এই ইনিংসে বাংলাদেশ সফরকারীদের জন্য ১৭০ রানের একটি লক্ষ্য রেখে যায়।
রোস্টন চেজ ৫ উইকেট নিয়ে ধ্বংস করেন বাংলাদেশ
মিরপুরের এই পিচটি স্পিন-সহায়ক ছিল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা এর পূর্ণ সুবিধা নিয়েছেন। প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন সফরকারী বোলাররা।
ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রোস্টন চেজ ৩৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। এছাড়া জোমেল ওয়ারিকান ৬৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন।
সহজ জয় এবং বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট স্কোরকার্ড
জয়ের লক্ষ্যে নেমে ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্রেন্ডন কিং ৮১ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। জন ক্যাম্পবেল গুরুত্বপূর্ণ ৪৯ রান করেন এবং কেভেম হজ ২৭ বলে ৩১ রান করে শেষ করেন।
বোলিংয়ে বাংলাদেশ খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। হাসান মাহমুদ ১৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। তবে তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজরা সঠিক জায়গায় বল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্রেন্ডন কিং এবং জন ক্যাম্পবেল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার সুযোগ পান।
প্রথম আলো ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা যথেষ্ট টার্ন পেলেও বাংলাদেশের স্পিনাররা সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। তারা ধারাবাহিকভাবে সঠিক জায়গায় বল করতে হিমশিম খেয়েছেন, ফলে বোলাররা ছন্দে ফেরার সুযোগ পাননি।
নিজেদের ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক পিচেও কার্যকর বোলিং করতে না পারা এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় এই পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী ৫ নভেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। সেই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং কৌশলে বাংলাদেশ কী পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।