ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৬: দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রতীক Padma Bridge চালুর চার বছর পূর্ণ করেছে। ২০২২ সালের ২৬ জুন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে সেতুটি শুধু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করেনি, একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর গত চার বছরে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ যানবাহন পারাপার করেছে। এ সময় সেতু থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা, যা দেশের অবকাঠামো খাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের ২১টি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প এবং পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সেতুটি চালুর পর থেকেই যানবাহনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ ও অন্যান্য দীর্ঘ ছুটির সময় টোল আদায়ের নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কয়েক কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে, যা সেতুটির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও অর্থনৈতিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, বর্তমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে পদ্মা সেতুর টোল আয় আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সেতু নির্মাণে ব্যয় হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি রেল যোগাযোগ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সংযোগ থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত তথ্য
উদ্বোধন: ২৫ জুন ২০২২
যান চলাচল শুরু: ২৬ জুন ২০২২
চার বছরে পারাপার হওয়া যানবাহন: প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ
মোট টোল আদায়: প্রায় ৩,৩০০–৩,৩৯২ কোটি টাকা
উপকারভোগী জেলা: ২১টি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা