ঢাকা, ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি.। পাহাড়ের বুক থেকে বয়ে আসা অর্গানিক ফলের সুমিষ্ট স্বাদ, অনন্যকৃষিজ ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি সংস্কৃতিকে সমতলের মানুষেরদোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। ‘পাহাড়ি ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ’—এই চমৎকার প্রতিপাদ্যকেসামনে রেখে আগামী ২৭ থেকে ২৯ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানীর বেইলিরোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিনদিনব্যাপী ‘পাহাড়ি ফল মেলা ২০২৬’। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী ২৭ জুন (শনিবার) সকাল ১০টায় পার্বত্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণেপ্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ফল মেলার আনুষ্ঠানিকউদ্বোধন করবেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়েরমাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাঙ্গামাটি পার্বত্যজেলার মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়িপার্বত্য জেলার মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাচিং প্রু এবংসংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মিসেস মাধবী মার্মা।
এবারের মেলায় বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলারমোট ৩০টি স্টল থাকবে। মেলা প্রাঙ্গণে সাজানো থাকবে পাহাড়ের সুস্বাদুমৌসুমী ফল—আম, আনারস, কাঁঠাল, কলা থেকে শুরু করে দুর্লভবুনো রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনোবেলের মতো বাহারি ফলেরসমাহার। রাজধানীতে বসবাসরত নাগরিক ও দর্শনার্থীরা এখানে এসেযেমন কেমিক্যালমুক্ত টাটকা পাহাড়ি ফলের স্বাদ নিতে পারবেন, তেমনইখুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কোমর তাঁতের বুনন।
আয়োজক পক্ষ মনে করছেন, এই মেলা কেবল ফল কেনাবেচার আসরনয়, বরং এটি তিন পার্বত্য জেলার প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত ফলেরবাজার সম্প্রসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোক্তা ও উৎপাদকদেরমধ্যে একটি টেকসই সেতু বন্ধন তৈরি করবে। একই সাথে শহুরে মানুষেরজন্য এটি হবে একটি সমন্বিত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।
মেলা উপলক্ষে প্রতি সন্ধ্যায় থাকবে বিশেষ আকর্ষণ। তিন পার্বত্য জেলাথেকে আগত নৃ-গোষ্ঠীর স্থানীয় শিল্পীরা মেলা প্রাঙ্গণে পরিবেশন করবেনতাদের ঐতিহ্যবাহী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলার সার্বিকব্যবস্থাপনা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেপ্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মেলা প্রচারেরলক্ষ্যে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারলাগানোর পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক ও টিভি স্ক্রলে প্রচারণার ব্যবস্থাকরা হয়েছে।
আগামী ২৭ জুন থেকে ২৯ জুন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সকলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। পাহাড়ের ফল ও সংস্কৃতির এই উৎসবমুখর আমেজে শামিল হতে সকলকে সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।