নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর হেনস্তার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন, জানায় প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনূস যে প্রোটোকল ও মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল, তিনি তা পেয়েছিলেন কি না, সরকার তা তদন্ত করে দেখবে।
সোমবারের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে ইউনূসকে বিমানবন্দর থেকে বের করে নেওয়া হচ্ছে; সে সময় কয়েকজন তাঁর দিকে এগিয়ে এসে স্লোগান দিচ্ছে। প্রতিবাদীদের "Why you come here?" বলে চিৎকার করতে এবং তাঁর উদ্দেশে বিভিন্ন অপমানজনক মন্তব্য করতে শোনা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থকের বিরুদ্ধে ইউনূসের ওপর এই হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নিউইয়র্কে, যেখানে বড় একটি বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে; তাই সরকারের প্রতিক্রিয়া সেখানকার প্রবাসীদের কাছেও সরাসরি তাৎপর্যপূর্ণ।
ইউনূস হেনস্তায় আইনি ব্যবস্থা কী হবে
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "অবশ্যই, এই অপরাধে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের অভিনেত্রী (আজমেরী হক বাঁধন) হেনস্তার শিকার হওয়ার পর যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আমি জানি। এই ঘটনায়ও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।"
গত মাসে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হেনস্তার শিকার হন এবং ওই ঘটনায় পরে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূসের হেনস্তার ঘটনাতেও সেই একই পথে এগোবে সরকার।
তবে ঠিক কোন এখতিয়ারে, কার বিরুদ্ধে এবং কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জেএফকে বিমানবন্দরের ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করা হয়েছে বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানা যায়নি।
প্রোটোকল পেয়েছিলেন কি না, তাও তদন্ত হবে
জাহেদ উর রহমান আরও জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস যে প্রোটোকল ও মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল, তিনি তা পেয়েছিলেন কি না, সরকার তা তদন্ত করে দেখবে। অর্থাৎ হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অভ্যর্থনা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
তিনি বলেন, "পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের আমি বলতে চাই, তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলে তা নাকেঁচে যাবে না। সে বিষয়ে কোনো প্রশ্নই নেই।"
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্প্রতির প্রশ্ন
রাজনৈতিক সম্প্রতির প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে অনুশোচনার অভাব এবং বিভিন্ন সময়ে তাদের করা হুমকির কথা তুলে ধরেন। এই প্রেক্ষাপটে দলটির সঙ্গে সম্প্রতির কোনো সম্ভাবনা তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় দেখছেন না বলে মন্তব্য করেন।
এখন নজর থাকবে সরকারের ঘোষিত আইনি প্রক্রিয়া কোন দেশের আইনে, কার বিরুদ্ধে এগোয় এবং প্রোটোকল তদন্তে কী ওঠে আসে। জেএফকের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় কি না, সেটিও এখনো অজানা।