জাপানের উত্তরাঞ্চলে শুক্রবার সন্ধ্যায় ৬.৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে তোহোকু অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয় এবং সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় পরিবহন ব্যবস্থা। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টা ২২ মিনিটে মিয়াগি প্রিফেকচারের উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের ভূমিকম্প তীব্রতা স্কেলে ইশিনোমাকি, তোমে এবং ওসাকি শহরে কম্পনের মাত্রা ছিল “লোয়ার ৫”।
ভূমিকম্পের কম্পন উত্তর-পূর্ব জাপানের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। সেন্দাইসহ বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি রাজধানী টোকিওতেও ভবন কেঁপে ওঠার খবর পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই তাদের মোবাইলে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়।
ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে টোকিও থেকে শিন-আওমোরি পর্যন্ত তোহোকু শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় ইস্ট জাপান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটে। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিয়াগি ও ফুকুশিমা অঞ্চলের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর আলোচিত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্র নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অব ফায়ার” অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের পর আগামী কয়েকদিন আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।