রফি উদ্দিন মারুফ । রিয়াদ, সৌদি আরব
নিত্যনব নব ক্ষণে মরু ঝঞ্ঝাটে ছুটি
বিদগ্ধ ফেরিতে বসে ধরি সময়ের টুটি,
মাস পেড়িয়ে বছর গড়িয়ে যায়
মৃতপ্রায় উল্কার গতিতে সময় দৌঁড়ায় ।
চাঁদের জোস্নার তারাভরা আকাশে
মেঘ গর্জনে রাত কাটে হৃদয়ের হিন্দোলে,
বসন্ত এসছে বলে নাই কোনো উল্লাস
তবুও বসন্তের ফুল ফুটে মনে!
বাঙ্গালী মন, নববর্ষের প্রতি চেয়ে থাকে
প্রসূনতায় ছায়া কোনো সবুজ কাননে।
চৈত্র বিদায়ী সুরের কুঞ্জ লহরে
দখিনা সমীরণের ঝিরিঝিরি প্রহরে
বদন জুড়িয়ে যায় না!
এখানে এই মরু প্রকৃতির কোলে।
বৈশাখী আহ্বানের মাদল বাজা রাতে
কালবৈশাখীর প্রচন্ড তান্ডব শেষে
এখানে ধরণীর নীরবতা আসে না ভুলে।
তবুও বাঙালির মন, খাঁটি বাঙ্গালিয়ানায় ভরা
পান্তা ভাতে না জুটুক ইলিশ!
না হোক কোনো মঙ্গল শোভাযাত্রা।
হৃদয়ের অলিন্দ নিলয়ের উভয় লহরে
বাঙ্গালিয়ানা শাড়ির আঁচলের পটে
বৈশাখ আসে জীবনে নিয়ে খুশির বার্তা।
প্রবাসের ঘামে ভেজা বদনের ক্লান্ত পরতে
বৈশাখ মানে একটি হারানো গানের সুর,
অসমাপ্ত কবিতার বেদনার্ত শিরোনাম!
লাঞ্চের পলিথিন ব্যাগে
ভাতের সাথে ব্রয়লার মুরগির ঝোল!
টাকার সাথে রিয়ালের হিসাব,
স্বদেশে পাওনাদারের হরদম তাগাদায়
মাথায় ফিরে ফিরে খাচ্ছে ঘুরপাক!
আর জনে জনে জিজ্ঞেস করে ফেরা
আজ বাংলা মাসের কতো তারিখ!
প্রবাস জীবনের রোজনামচার পাতায়
এভাবেই কাটে প্রতিটি নববর্ষের রাত।