অ্যানফিল্ডে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে রোববার ৩-০ গোলে হারের পর লিভারপুলের দুই ব্যয়বহুল সাইনিং ফ্লোরিয়ান ভির্টস ও ব্র্যাডলি বারকোলা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও তাদের ওপর ‘শতভাগ আস্থা’ আছে বলে জানিয়েছেন প্রধান কোচ আন্দোনি ইরাওলা।
স্কাই স্পোর্টসের খবর অনুযায়ী, বায়ার লেভারকুজেন থেকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা ভির্টস এখনো তার দামের প্রতিদান দিতে পারেননি, আর গ্রীষ্মের ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিকে পিএসজি থেকে ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ডে আসা বারকোলা ছয় ম্যাচেও স্পষ্ট অবদান রাখতে পারেননি। সিটির বিপক্ষে ম্যাচে দল যখন উজ্জীবিত ছিল, তখনও খেলায় প্রভাব ফেলতে পারেননি ভির্টস।
সমালোচনা এখন আরও তীব্র হওয়ার কারণ হলো চোট। এ মৌসুমে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনজন—আলেকজান্ডার ইসাক, কোডি গাকপো ও ডমিনিক সোবোস্লাই—সবাই চোটে পড়েছেন। অস্ট্রিয়ার লিনজে লাস্কের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে এই তিনজনই থাকছেন না।
ইরাওলার ভির্টস-বারকোলায় আস্থা অটুট
সমালোচনার জবাবে ইরাওলা বলেন, “ব্র্যাডলি আর ফ্লো সবার মতোই এ মৌসুমে ভালো-মন্দ ম্যাচ খেলেছে, কিন্তু আমরা তাদের মান জানি, নিশ্চিতভাবে জানি তারা আমাদের ভালো পারফরম্যান্স দেবে।”
চোটগ্রস্ত তিনজন সম্পর্কে তিনি বলেন, “কোডি, অ্যালেক্স আর ডম এ মৌসুমের শীর্ষ গোলদাতা, কারণ ওই পজিশনে তারাই বেশি খেলছে। আমাদের ওই সংখ্যাগুলো খেলোয়াড়দের কাছ থেকেই দরকার; ওই পজিশনে যাদের আছে, তাদের ওপরই আমরা ভরসা করি।”
সর্বশেষ জাতীয় দলের বিরতিতে জার্মানির হয়ে একটি গোল করা ভির্টসের পারফরম্যান্সকে ইতিবাচক বলে মনে করেন ইরাওলা। তিনি বলেন, “কে গোল করল তা নিয়ে আমার কিছু যায় আসে না, এটা আরও সমষ্টিগত ব্যাপার।”
ক্যারাগারের দাবি: ভির্টসকে বাদ দেওয়া হোক
স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষক জেমি ক্যারাগার অবশ্য এতটা ধৈর্যশীল নন। সিটির কাছে হারের পর তিনি বলেন, “দুঃখের সঙ্গে বলছি: ফ্লোরিয়ান ভির্টস সাইনিংটা কাজ করছে না, এখন পর্যন্ত কাজই করেনি, আর ভির্টস খেললে (রায়ান) গ্রাভেনবের্খের বেঞ্চে বসে থাকা উচিত নয়।”
তার হিসাবে ভির্টস লিভারপুলের হয়ে ৫৫-৬০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন—এই সংখ্যা কম নয়। “আমার মনে হয় না একটা ম্যাচের কথা যেখানে সে লিভারপুলকে ম্যাচ জিতিয়েছে। তাকে তো প্রিমিয়ার লিগের তারকা হিসেবে আনা হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম সে সেই কেভিন ডি ব্রুইন হতে পারবে, যে মাঝে মাঝে ম্যানচেস্টার সিটিকে জেতাত।”
নম্বর ১০ পজিশনে ভির্টস প্রতি সপ্তাহে প্রায় নিশ্চিতভাবে খেলছেন—এটা বন্ধ হতে হবে বলে মনে করেন ক্যারাগার। “তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া দরকার। আগের ম্যাচের পরও বলেছি, আবারও বলছি।”
তবে বারকোলার ব্যাপারে ক্যারাগার নরম। তার যুক্তি, বারকোলা ক্লাবে মাত্র ছয় সপ্তাহ ধরে আছেন এবং প্রি-সিজন পাননি। “আরেকটু বেশি চাওয়া যায়, কিন্তু একটু ধীরে যেতে হবে, আরেকটু সময় দিতে হবে। এখনই তার সমালোচনা করা কঠোর হবে—কিন্তু ভির্টসের সমালোচনা করা কঠোর নয়।”
চোট, ব্যস্ত সূচি আর লাস্ক ম্যাচে বড় প্রশ্ন
বুন্দেসলিগায় উজ্জ্বল হওয়া ভির্টস লিভারপুলে এখনো নিজের ভূমিকা খুঁজে পাননি; গ্রীষ্মে কোচ বদলও তার পক্ষে সহায়ক হয়নি। এখন শীর্ষ তিন গোলদাতা না থাকায় ছোট স্কোয়াডের বাকি তারকাদের ওপরই চোখ।
লিনজের ম্যাচ ১৮ দিনে লিভারপুলের ছয় ম্যাচের দ্বিতীয়টি। এ জন্য একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইরাওলা বলেন, “তাজা থাকার কারণে আর কিছু ছোটখাটো চোটের কারণে কাল একই প্রথম একাদশ নামানো কঠিন হবে।”
লাস্কের পরের তিন ম্যাচ—ব্রেন্টফোর্ড, ভিয়ারিয়াল ও ব্রাইটনের বিপক্ষে—ইসাক, গাকপো আর সোবোস্লাই ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন ইরাওলা। সে ক্ষেত্রে নম্বর ১০ পজিশনে ভির্টস জায়গা ধরে রাখতে পারবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।