নিজস্ব প্রতিবেদক | যুক্তরাষ্ট্র
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা। এ নিয়ে প্রযুক্তি খাতে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। (Reuters)
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রবন্ধে এআই উন্নয়নের গতি ধীর করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহার, সাইবার হামলা এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। (Reuters)
আমোদেইয়ের আহ্বানে সমর্থন জানিয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। অল্টম্যান এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
আমোদেই সতর্ক করেছেন, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এআই এজেন্টগুলোর সমন্বিত সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা ইন্টারনেটের ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে এটি তাঁর আশঙ্কাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়।
নিরাপত্তা জোরদারে আমোদেই স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী নিয়োগ, এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণে সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি এআই উন্নয়ন বন্ধের পরিবর্তে দায়িত্বশীল ও নিরাপদ অগ্রগতির পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে প্রযুক্তি খাতের সবাই এই আহ্বানের সঙ্গে একমত নন। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, উন্নয়ন ধীর করার উদ্যোগ উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এআই উন্নয়ন ধীর করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
এদিকে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। সোমবার এআই-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এআই খাতের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও বিপুল অবকাঠামো বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।