ওয়াশিংটন ডিসি — যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের প্রথার অবসান ঘটতে পারে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল পাস করেছে, যার মাধ্যমে ডে-লাইট সেভিং টাইম (DST) স্থায়ী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিলটি ৩০৮–১১৭ ভোটে পাস হয়েছে এবং এখন এটি অনুমোদনের জন্য সিনেটে যাবে। সিনেটে পাস হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর পেলে যুক্তরাষ্ট্রে আর বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তন করতে হবে না। মার্চ মাসে এক ঘণ্টা সময় এগিয়ে নেওয়া এবং নভেম্বর মাসে এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়ার প্রচলিত নিয়মের অবসান ঘটবে। সারা বছর একই সময় বজায় থাকবে।
বিলটির সমর্থকদের মতে, বছরে দুইবার সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং সড়ক দুর্ঘটনা ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু হলে সন্ধ্যায় বেশি সময় আলো থাকবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা এবং বিনোদনের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। হোয়াইট হাউসও এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে এটিকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।
তবে বিলটির বিরোধীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শীতকালে সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকবে, যা বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ এবং বাইরের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া বিমান সংস্থাগুলো বলছে, এ পরিবর্তন কার্যকর হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সময়সূচিতে ব্যাপক সমন্বয় করতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের জ্বালানি সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রে একবার স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়েছিল। কিন্তু শীতের সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকার কারণে জনমতের চাপে এক বছরের মধ্যেই সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক বছরে দুইবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের প্রথা বন্ধ করার পক্ষে। তবে স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম নাকি স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইম—কোনটি চালু হওয়া উচিত, সে বিষয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে।
সিনেটে বিলটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সময় ব্যবস্থাপনায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর প্রভাব পড়বে শিক্ষা, ব্যবসা, পরিবহনসহ দেশের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।