ঢাকা, ২২ মে ২০২৬ — শিক্ষার পাশাপাশি তরুণদের নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমে যুক্ত রাখতে দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাকে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
শুক্রবার ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স রিক্রিয়েশন সেন্টার (ইআরসি) অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে “হেলদি এজিং” শীর্ষক একটি সেমিনার এবং স্পোর্টস টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি কাঠামোবদ্ধ ক্রীড়া উন্নয়ন পথ (অ্যাথলেট ডেভেলপমেন্ট পাথওয়ে) চালু করা হচ্ছে, যাতে শিশু ও তরুণরা বছরের একটি বড় সময় ধরে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
“আমরা এমন একটি টেকসই ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তুলছি, যেখানে শিশু ও তরুণরা বছরের একটি উল্লেখযোগ্য সময় খেলাধুলায় অংশ নিতে পারবে,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ের পর্ব ঈদের পর শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে মার্চ বা এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, যাতে তরুণরা প্রায় ছয় মাস খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কাঠামোর আওতায় ইতোমধ্যে আটটি খেলাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হলে মোট বাধ্যতামূলক খেলার সংখ্যা দাঁড়াবে দশে।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চিহ্নিত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও পেশাগত ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সুযোগ, যা বিভাগীয় পর্যায়ের বিকেএসপি ও ঢাকার বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রদান করা হবে।
খেলাধুলার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগের প্রজন্ম নিয়মিত বাইরের খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকত।
“যদি শিশুরা নিয়মিত মাঠে খেলতে যায়, তারা কম অসুস্থ হবে এবং স্বাস্থ্যবান জীবন যাপন করবে,” বলেন তিনি।
তিনি ‘হেলদি এজিং’ ধারণার প্রসঙ্গে বলেন, সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবন বজায় রাখতে হাঁটা, ব্যায়াম ও খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত নতুন খেলার মাঠগুলোতে হাঁটার পথ (ওয়াকিং ট্র্যাক) রাখা হচ্ছে, যাতে সব বয়সের মানুষ স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শারীরিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আইইবির উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রকৌশলীরা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবনের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) বলেন, গত ৭৮ বছর ধরে আইইবি দেশের প্রকৌশলীদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রবীণ ও তরুণ উভয় প্রকৌশলীর মধ্যেই ‘হেলদি এজিং’ ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদনশীল থাকতে পারে।
প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় থাকা প্রকৌশলীরা ব্যস্ততার কারণে প্রায়ই শারীরিক ব্যায়ামকে উপেক্ষা করেন। তাই নিয়মিত ফিটনেস, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মানসিক সুস্থতা জরুরি।
ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম শোয়েব বাশারী হাবলু বলেন, পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস এম মনজুরুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য, সঠিক পুষ্টি এবং নিয়মিত ব্যায়ামের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খান আতাউর রহমান সন্তু বলেন, আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের অঙ্গীকার হলো একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে স্পোর্টস টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে আইইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।