অটোয়া — ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কানাডা দেশব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে তার ১৫৯তম কানাডা ডে উদযাপন করেছে। এই দিনটি কানাডার কনফেডারেশন বা রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করে পালন করা হয়।
দেশজুড়ে শহর ও ছোট শহরগুলোতে লাখো মানুষ অংশ নেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্যারেড, কনসার্ট এবং আতশবাজির প্রদর্শনীতে। একই সঙ্গে এই দিনটি ছিল জাতীয় গর্ব, বহুসংস্কৃতি এবং ঐক্যের প্রতিফলন।
দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসব
রাজধানী অটোয়ায় পার্লামেন্ট হিলে প্রধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগীত পরিবেশনা, সামরিক সম্মাননা এবং নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণে কানাডার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাথে পুনর্মিলন ও সমঝোতার চলমান প্রচেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
আতশবাজি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার ও মন্ট্রিয়ালের মতো বড় শহরগুলোতে আতশবাজি, খাবারের উৎসব এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।
অনেক স্থানে আদিবাসী সংস্কৃতিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ড্রাম বাজনা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও শিল্প প্রদর্শনী ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণ
এই বছরের কানাডা ডে-তে হাজার হাজার নতুন নাগরিক শপথ গ্রহণ করেন। কর্মকর্তারা বলেন, অভিবাসীরা কানাডার অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জনমত ও বিতর্ক
উৎসবের পাশাপাশি আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আদিবাসী অধিকার নিয়ে আলোচনাও সামনে আসে। কিছু গোষ্ঠী সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক
১৮৬৭ সালে কানাডার কনফেডারেশন গঠনের স্মরণে প্রতি বছর ১ জুলাই কানাডা ডে পালন করা হয়। সময়ের সঙ্গে এটি একটি বহুসংস্কৃতির জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।
আতশবাজির আলোয় যখন আকাশ ভরে ওঠে, তখন কানাডা আবারও তার ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যতের আশাবাদের বার্তা উদযাপন করে।