নিউ ইয়র্ক — যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপনাগুলোর একটি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ প্রেমের প্রস্তাব শেষ হয়েছে গ্রেপ্তার ও ফৌজদারি মামলার মুখে।
বুধবার বিকেলে দুইজন অ্যাডভেঞ্চার ক্লাইম্বার ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব—আনজেলা নিকোলাউ ও ইভান কুজনেতসভ—বিনা অনুমতিতে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনা অংশে উঠে পড়েন। তারা প্রায় ১,৪৫৪ ফুট উচ্চতায় পৌঁছে সেখানে একটি প্রেমের প্রস্তাবের দৃশ্য তৈরি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা কালো পোশাক পরে এবং মুখ ঢেকে ভবনের অত্যন্ত সংকুচিত লোহার কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন—যেখানে কোনো নিরাপত্তা বেল্ট বা হারনেস দেখা যায়নি। নিচে ম্যানহাটনের রাস্তায় হাজারো মানুষ দৃশ্যটি দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন।
আকাশচুম্বী উচ্চতায় প্রেমের বার্তা
ভিডিওতে দেখা যায়, তারা একটি কালো ব্যানার ঝুলিয়ে দেন, যেখানে লেখা ছিল—
“ক্ষমতার চেয়ে যখন প্রেমের শক্তি বড় হয়, তখন বিশ্বে শান্তি আসে।”
এর কিছুক্ষণ পর, তারা ভবনের আরও নিচের একটি প্ল্যাটফর্মে নেমে আসেন। সেখানে ইভান কুজনেতসভ হাঁটু গেড়ে আংটি বের করে আনজেলা নিকোলাউকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আনজেলা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন এবং তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন।
কীভাবে এত উচ্চ নিরাপত্তা ভেদ করা হলো?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও তারা কীভাবে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করলেন?
১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর এই ভবনের নিরাপত্তা বহুস্তরীয়ভাবে শক্ত করা হয়েছে। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য অ্যান্টেনা বা উপরের টেকনিক্যাল এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তদন্তকারীরা এখন সিসিটিভি ফুটেজ, প্রবেশ লগ এবং কর্মীদের চলাচল বিশ্লেষণ করে দেখছেন—কেউ তাদের সহায়তা করেছে কিনা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ফাঁক ছিল কিনা।
গ্রেপ্তার ও অভিযোগ
দৃশ্যটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাদের আটক করে। কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
বেআইনি অনুপ্রবেশ (Burglary)
অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ (Criminal trespass)
ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ (Reckless endangerment)
সম্পত্তি ক্ষতিসাধন
আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন
আগে থেকেই পরিচিত ‘রুফটপ ক্লাইম্বার’
এই যুগল আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত “রুফটপ ক্লাইম্বার” হিসেবে, যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে উঁচু ভবনে ওঠার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন।
তাদের জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ডকুমেন্টারিতেও তাদের এই ধরনের অ্যাডভেঞ্চার তুলে ধরা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। শুধু ভবনের ভেতরে থাকা মানুষদের জন্য নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থার জন্যও এটি বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রেম নাকি দায়িত্বহীনতা?
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া বিভক্ত। কেউ এটিকে “অসাধারণ প্রেমের প্রকাশ” বলছেন, আবার অনেকে এটিকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ” হিসেবে সমালোচনা করছেন।
যা-ই হোক, এই যুগল এখন রোমান্টিক মুহূর্তের বদলে আইনি জটিলতার মুখোমুখি।