স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে মাদ্রিদের দক্ষিণে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে বিবিসি এ খবর দিয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, একটি হাইস্পিড ট্রেন আরেকটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। সংঘর্ষে জড়িত ট্রেন দুটির একটি সরকারি রেল সংস্থা রেনফের, অন্যটি বেসরকারি অপারেটর ইরিওর।
গত জানুয়ারিতে আদামুসে ৪৬ জনের প্রাণ যায়। এক বছরের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হাইস্পিড ট্রেন দুর্ঘটনা। আগামী মাসে স্পেনে পার্লামেন্ট নির্বাচন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে দুর্ঘটনাটি ঘটায় দেশটির গর্বের হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মাদ্রিদের কাছে ট্রেন দুর্ঘটনা: কোথায় ও কখন ঘটে সংঘর্ষ
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল নয়টার কিছু পরে (জিএমটি সকাল আটটা) দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থল মোরা ও অরগাস পৌর এলাকার মাঝামাঝি, মাদ্রিদের ঠিক দক্ষিণে।
বিবিসির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনাস্থল হিসেবে উর্দার নামও এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস তাঁর প্রতিক্রিয়ায় একে তোলেদোর দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। ঘটনাস্থলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
স্পেনে হাইস্পিড ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে যা জানা গেছে
বিবিসি জানিয়েছে, উর্দায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি সংবাদমাধ্যমটির প্রাথমিক মূল্যায়ন। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ঠিক কোন নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রেনফে ও ইরিওর কোন ট্রেনটি পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে, প্রকাশিত তথ্যে তা-ও জানা যায়নি।
আদামুস দুর্ঘটনার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়
গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনের আদামুসে একটি হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এর পেছনের বগিগুলো সরকারি রেনফের একটি ট্রেনের চলার পথে গিয়ে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন।
বিবিসির ভাষ্য অনুযায়ী, আদামুসের সংঘর্ষটি ছিল ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। এর পর থেকেই দেশটির হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
দুই দুর্ঘটনার মিলও আছে, পার্থক্যও আছে। দুটিতেই রেনফের ট্রেন জড়িত ছিল। তবে বিবিসি বলছে, প্রেক্ষাপট একেবারে আলাদা:
- আদামুস (জানুয়ারি): রেললাইনে ফাটল থেকে দুর্ঘটনা; লাইনচ্যুত ট্রেনের বগি অন্য ট্রেনের পথে চলে যায়; নিহত ৪৬।
- উর্দা (বুধবার): নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটির আশঙ্কা, যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়; একটি ট্রেন আরেকটির পেছনে ধাক্কা দেয়; নিহত অন্তত ১০।
স্পেন ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা, নির্বাচনী প্রচার স্থগিত
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস বলেছেন, তিনি ‘তোলেদোর গুরুতর ট্রেন দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সানচেস লেখেন, ‘আমি পরিবহনমন্ত্রী এবং কাস্তিয়া-লা মানচার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’ তিনি জানান, জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে কাজ করছে, ‘যাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।’
‘সব ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার ভালোবাসা, সংহতি ও সমর্থন রইল।’ — পেদ্রো সানচেস
বিবিসি জানিয়েছে, সানচেস ও স্পেনের অন্য রাজনীতিকেরা বুধবারের সব প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল করেছেন। এর মধ্যে আগামী মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রচারও রয়েছে।
যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি
নিহতের সংখ্যা ‘অন্তত ১০’ জানিয়েছেন এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা, তবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। আহতের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, শুরু হলে কোন কর্তৃপক্ষ তা করছে, সে তথ্যও এখনো প্রকাশ পায়নি। যাত্রীদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ছিলেন কি না, তা-ও জানা যায়নি। আজকের কর্মসূচি বাতিলের বাইরে নির্বাচনী প্রচারে দুর্ঘটনাটির কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।