মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা প্রপোজিশন ৪০ নিয়ে রায় দেবেন। এই প্রস্তাব পাস হলে রাজ্যের সব বিলিয়নেয়ারের নিট সম্পদের ওপর একবারের জন্য ৫ শতাংশ কর বসবে। বিবিসি এ খবর দিয়েছে।
প্রস্তাবিত ক্যালিফোর্নিয়া বিলিয়নেয়ার ট্যাক্সের লক্ষ্য ১০০ বিলিয়ন ডলার (৭৫ বিলিয়ন পাউন্ড) তোলা। রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফেডারেল সরকারের বরাদ্দ কমেছে, সেই ঘাটতি পূরণে এই অর্থ ব্যয় হবে। সমর্থকদের ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক কর ও ব্যয়সংক্রান্ত বিলের কারণেই এই কাটছাঁট হয়েছে।
জরিপে দুই পক্ষের ব্যবধান সিদ্ধান্তহীন ভোটারের অংশের চেয়ে কম। ফলে ভোটের ফল এখনো অনিশ্চিত। এই ভোট দেখাবে, কেবল সবচেয়ে ধনী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা একটি সম্পদ কর ভোটারদের সমর্থন পায় কি না। ইউরোপে বিস্তৃত পরিসরের সম্পদ কর এরই মধ্যে প্রায় উঠে গেছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের পাবলিক পলিসির অধ্যাপক ফ্রান্সেসকো ত্রেব্বি বিবিসিকে বলেন, "আমার বিশ্বাস, এটিই প্রথম বিলিয়নেয়ার ট্যাক্স। অর্থাৎ এমন এক সম্পদ কর, যা সম্পদ বণ্টনের একেবারে চূড়ান্ত শীর্ষ স্তরকে লক্ষ্য করে।"
প্রপোজিশন ৪০ কী, এর অর্থ কোথায় যাবে?
প্রস্তাবটি ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিলিয়নেয়ারের ওপর একবারই প্রযোজ্য হবে। বিবিসির হিসাবে রাজ্যে এমন ব্যক্তি দুই শর কিছু বেশি। তাঁদের মধ্যে আছেন অপরাহ উইনফ্রে, মার্ক জাকারবার্গ, কিম কার্দাশিয়ান ও জর্জ লুকাস।
উদ্যোগটির নেতৃত্বে থাকা সংগঠনগুলোর একটি সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন-ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ওয়ার্কার্স ওয়েস্ট। সংগঠনটির চিফ অব স্টাফ সুজান হিমেনেস প্রস্তাবটিকে ফেডারেল কাটছাঁটের একটি "স্বল্পমেয়াদি সমাধান" বলেছেন।
"আমরা কিছু না করলে স্বাস্থ্যসেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উপায় খুঁজতে খুঁজতেই আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।"
বিবিসিকে কথাগুলো বলেন হিমেনেস। সমর্থকেরা আরও যুক্তি দিচ্ছেন, এই কর অতি ধনীদের ন্যায্য হিস্যা দেওয়া নিশ্চিত করবে এবং রাজ্যের বাজেটের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে।
বিবিসি জানায়, ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। বিশ্বে এর অবস্থান চতুর্থ, ভারত ও যুক্তরাজ্যের চেয়েও বড়। আবার দেশের মধ্যে গৃহহীন মানুষের সবচেয়ে বড় অংশ এই রাজ্যে, আর সম্পদবৈষম্যও এখানে সবচেয়ে বেশির দিকে। অধ্যাপক ত্রেব্বির মতে, এই কর সেই বৈষম্য কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া ধনীদের উপর কর: কারা পক্ষে, কারা বিপক্ষে
প্রস্তাবটি রাজনৈতিক নেতা ও ধনী, দুই মহলকেই বিভক্ত করেছে। বিবিসির তথ্যমতে, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং প্রস্তাবের সমর্থকদের একজন।
বিরোধিতায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতা রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, যাঁর মেয়াদ শেষের পথে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই কর ধনীদের রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করতে পারে। তাঁরা চলে গেলে রাজ্য তাঁদের আয়কর রাজস্বও হারাবে।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি দিয়েছেন। সংগঠনটি এমন কিছু ব্যালট প্রস্তাবে অর্থ জোগাচ্ছে, যেগুলো সম্পদ করটি আটকে দিতে পারে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটির কারণে কয়েকজন অতি ধনী বাসিন্দা এরই মধ্যে রাজ্য ছেড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী সম্প্রচারমাধ্যমটিকে বলেন, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন। কিন্তু প্রস্তাবটির কারণে তাঁর মনে হয়েছে, "আমাকে যেন একটু অবাঞ্ছিত মনে করা হচ্ছে।"
প্রপোজিশন ৪০ সম্পদ কর ও ইউরোপের অভিজ্ঞতা
ইউরোপে একসময় সম্পদ কর বেশ প্রচলিত ছিল, কিন্তু দ্রুত তা জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের রাজনৈতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ড. ক্রিস্টিয়ান নিমিয়েৎস বলেন, এখন ইউরোপের মাত্র তিনটি দেশে এই কর আছে: স্পেন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড।
নিমিয়েৎসের মতে, সম্পদ কর "যতটা লাভ দেয়, তার চেয়ে ঝামেলা বেশি"। তাঁর যুক্তি, এই কর প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে, বিনিয়োগ দমিয়ে রাখে