মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বুধবার ২৮ অক্টোবর শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ। দলে ফিরেছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা।
সিরিজটি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের অংশ, জানিয়েছে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। বাংলাদেশের জন্য এই দুই টেস্টের ফল তাই শুধু সিরিজে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের কী দরকার
করসিকানা ডেইলি সান-এর প্রকাশিত এক প্রিভিউ অনুযায়ী, ২০২৫-২৭ চক্রের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এখন চতুর্থ। এই চক্রে এরই মধ্যে ছয়টি টেস্ট খেলেছে দলটি। তিনটিতে জিতেছে, দুটিতে হেরেছে, একটি ড্র হয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটিসহ বাংলাদেশের হাতে আছে আরও ছয়টি ম্যাচ। একই প্রতিবেদন বলছে, ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে এর মধ্যে অন্তত চারটিতে জিততে হবে এবং একটিতে ড্র করতে হবে। তাই মিরপুর বা সিলেটে হারলে চক্রের বাকি অংশে ভুল করার সুযোগ খুব কমই থাকবে। প্রধান নির্বাচকের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে, সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরও আছে।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য দলকে ফাইনালের হিসাব নিয়ে না ভেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকেই মনোযোগ দিতে বলছেন। করসিকানা ডেইলি সান তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে।
“আমি সব সময় যেমনটা বলি, ছোট লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারলে বড় লক্ষ্যেও পৌঁছাব। তাই এই মুহূর্তে আমাদের মনোযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে।”
বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ কবে, কোথায়
ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী সিরিজের সূচি:
- প্রথম টেস্ট: ২৮ অক্টোবর থেকে, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর
- দ্বিতীয় টেস্ট: ৫ নভেম্বর থেকে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম
প্রথম টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), গত শুক্রবার ২৩ অক্টোবর। একাদশ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশ দল: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), শাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম।
নাহিদ রানা কেন নেই, লিটনকে নিয়ে কতটা শঙ্কা
দীর্ঘদিনের এক চোটের মূল্যায়নের জন্য নাহিদ রানা এখন অস্ট্রেলিয়ায়। ক্রিকবাজ জানিয়েছে, প্রথম টেস্টে তিনি খেলছেন না। সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টেও তাঁর ফেরার সম্ভাবনা কম।
উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস অবশ্য দলে আছেন। নিতম্বের হাড়ের চোটের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি তিনি। তাঁর ফিটনেস নিয়ে এখনো কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে বলে স্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।
“লক্ষ্য খুব পরিষ্কার। আমরা ডব্লিউটিসির অংশ, এই দুটি ম্যাচও ডব্লিউটিসির অংশ। তাই আমাদের জন্য এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দলের দিকে তাকালে দেখবেন, খুব বেশি পরিবর্তন করিনি। লিটনকে নিয়ে এখনো একটু দুশ্চিন্তা আছে, তবে আমরা আশাবাদী যে সে ঠিক হয়ে যাবে। তাহলে খুব বেশি পরিবর্তন করতে হবে না। আমরা আশাবাদী, আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
বিকল্প উইকেটকিপার হিসেবে রাখা হয়েছে জাকের আলীকে। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
খালেদ ও সৌম্যকে বাদ দেওয়ার কারণ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বিশ্রামে ছিলেন তাসকিন। ক্রিকবাজ জানিয়েছে, তাঁর ফেরার ফলে বাদ পড়েছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা পেসার খালেদ আহমেদ। আফগানিস্তান টেস্টের দলে থাকা ওপেনার সৌম্য সরকারও এবার জায়গা পাননি।
পেস আক্রমণে তাসকিনের সঙ্গে আছেন হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। স্পিনার তিনজন: তাইজুল, মেহেদী ও নাঈম। বাশার বলেন, “দেখুন, এই মুহূর্তে আমাদের সেরা তিনজন আসলে এবাদত, শরিফুল আর হাসান। আপনারা জানেন, ওরাই খেলছে। তার ওপর তাসকিন ফিরেছে। তাই খালেদের এখানে আসার সম্ভাবনা কম ছিল।”
বাশারের ব্যাখ্যায় দল বাছাইয়ের আরেকটি দিকও উঠে এসেছে। একাদশে যাঁদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তাঁদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলাতে চান নির্বাচকেরা।
“আমরা চারজন সিম বোলার নিয়েছি বলে খালেদ সুযোগ পায়নি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় গেলে, এমনকি পরের টেস্টেই হয়তো খালেদ দলে ফিরতে পারে। কিন্তু আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছি। যারা একাদশে না-ও থাকতে পারে, আমরা চাই তারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলুক। এ কারণেই সৌম্য সরকারকেও রাখছি না। আমরা চাই সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলুক।”
মিরপুরে প্রথম বল মাঠে গড়ানোর আগে বাংলাদেশকে এখনো একাদশ চূড়ান্ত করতে হবে। লিটন দাস পুরোপুরি ফিট হয়ে কিপিং গ্লাভস হাতে নিতে পারবেন কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত হয়নি।