আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সব ধরনের পরোক্ষ শান্তি আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক নীতির কারণে এই মুহূর্তে আলোচনার কোনো পরিবেশ নেই। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈরী আচরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততক্ষণ এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও অচলাবস্থার কারণ
গত কয়েক বছর ধরে ওমানের মাস্কাট এবং কাতারের দোহায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি টেবিলে না বসে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। এই পরোক্ষ আলোচনার মূল এজেন্ডাগুলো ছিল:
নিউক্লিয়ার চুক্তি (JCPOA) পুনরুজ্জীবন: ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর এটি পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
বন্দী বিনিময় ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস এবং বন্দী মুক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে: সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান প্রত্যক্ষ সংঘাত এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থন এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রধান কারণ। তেহরান মনে করছে, ওয়াশিংটন একদিকে শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দিতে সামরিক সহায়তা বাড়িয়ে চলেছে।
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রভাব
এই আলোচনা স্থগিত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
[পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত]
│
├──► পরমাণু কর্মসূচির বিস্তার (ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বৃদ্ধি)
├──► মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি ও প্রত্যক্ষ সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি
└──► আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্থিরতা
হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, "আমরা কূটনীতির পথ বন্ধ করতে চাই না, তবে ইরান যদি আলোচনার টেবিল থেকে সরে যায়, তবে আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেব।"
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ওমান ও কাতার এখনো পর্দার আড়াল থেকে দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিকট ভবিষ্যতে এই পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।