বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন লন্ডনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ব্যালন ডি'অর ২০২৬ বিজয়ী হয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মূল পুরস্কার ঘোষণার প্রায় ৪৫ মিনিট আগে তিনি বছরের সেরা পুরুষ স্ট্রাইকারের পুরস্কারও জেতেন।
কেইনের এই জয়ে বুন্দেসলিগার ৩০ বছরের খরা কাটল। জার্মান লিগের সর্বশেষ ব্যালন ডি'অর বিজয়ী ছিলেন ১৯৯৬ সালের ম্যাথিয়াস জামার।
দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এবারের চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং দেখাচ্ছে যে ভোটাররা বিশ্বকাপের নৈপুণ্যের চেয়ে ক্লাবের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদের তারকারা পিছিয়ে পড়েছেন।
এই মৌসুমে কেইন কত গোল করেছেন?
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, কেইন ক্লাবের হয়ে ৫৬ ম্যাচে ৬৪ গোল করেছেন। পত্রিকাটি এই পরিসংখ্যানকে বিস্ময়কর বলে উল্লেখ করেছে। তারা আরও লিখেছে, গোল করার পাশাপাশি থ্রু বল দিয়ে সুযোগ তৈরিতেও কেইন ক্রমশ বিশ্বমানের খ্যাতি অর্জন করছেন।
বায়ার্ন মিউনিখ জার্মানির শীর্ষ লিগ বুন্দেসলিগায় খেলে। এবার তারা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছিল। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, এই দলের সামনের সারিতে কেইনের অবস্থানই সম্ভবত তাঁকে শেষ ধাক্কাটা দিয়েছে।
কেইন এমবাপ্পে ব্যালন ডি'অর লড়াই কীভাবে নিষ্পত্তি হলো
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, শেষ পর্যন্ত লড়াইটা দাঁড়ায় কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে। তবে প্রতিবেদনে এমবাপ্পের চূড়ান্ত অবস্থান কিংবা শীর্ষ তিনের পূর্ণ ক্রম উল্লেখ করা হয়নি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপ্পে ৪৭ ম্যাচে ৪৩ গোল করেছেন। কিন্তু মৌসুম শেষে তাঁর দল স্পেনের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থাকে, আর বিশ্বকাপে ফ্রান্স হয় চতুর্থ। এই গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কেইনের ইংল্যান্ডই ফ্রান্সকে হারিয়েছিল।
প্রশ্ন ছিল, তথাকথিত "বুন্দেসলিগা ট্যাক্স" ভোটারদের প্রভাবিত করবে কি না। ধারণাটি হলো, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল হয় জার্মানিতে, তাই সেখানে করা গোলের মূল্য কম। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, এই ধারণা বায়ার্নসহ জার্মান ক্লাবগুলোর অনেক ব্যালন ডি'অর প্রত্যাশীকে পিছিয়ে রেখেছে।
ব্যালন ডি'অর ২০২৬ র্যাঙ্কিং: বড় ক্লাবের তারকারা কোথায়
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে আসা অবস্থানগুলো এমন:
- রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি): চতুর্থ
- খভিচা কভারাৎসখেলিয়া (পিএসজি): ষষ্ঠ
- আর্লিং হলান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি): অষ্টম
- জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ): একাদশ
- ডেক্লান রাইস (আর্সেনাল): পঞ্চদশ
প্রিমিয়ার লিগজয়ী আর্সেনাল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও উঠেছিল, তবু তাদের কোনো খেলোয়াড় ১৫তম স্থানের ওপরে উঠতে পারেননি। বছরের সেরা ক্লাবের পুরস্কার জিতেছে পিএসজি, কিন্তু তাদের সেরা অবস্থান ষষ্ঠ।
বিশ্বকাপে রদ্রি ও হলান্ড দুর্দান্ত খেললেও আর্সেনালকে টপকাতে না পারায় সিটির এই দুই তারকার দাবি দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছে দ্য গার্ডিয়ান। অনুষ্ঠানের আগেই পুরস্কারের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, বেলিংহাম একাদশ হয়েছেন। পত্রিকাটির ভাষায়, ক্লাবের ফর্ম তাঁর বিশ্বকাপের নৈপুণ্যকে ছাপিয়ে গেছে।
গত বছর উসমান দেম্বেলে ভিনিসিউস জুনিয়রকে পেছনে ফেলে পুরস্কার জিতলে রিয়াল মাদ্রিদ তা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল, যা বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বায়ার্ন মিউনিখ ব্যালন ডি'অর মনোনয়নে আর কারা ছিলেন?
কেইন ছাড়াও বায়ার্নের আরও তিন খেলোয়াড় সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল ওলিসে নবম, লুইস দিয়াস ২৪তম এবং দায়োত উপামেকানো ২৬তম হয়েছেন। জয়ের সম্ভাবনা না থাকলেও তিনজনই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বায়ার্ন ও বুন্দেসলিগার সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট কেইনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
বুন্দেসলিগা ব্যালন ডি'অর খরার পেছনের ইতিহাস
দ্য গার্ডিয়ান মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০২০ সালে রবার্ট লেভানডফস্কির পুরস্কার জেতা প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আয়োজকেরা সেবার পুরস্কার বাতিল করেন।
পত্রিকাটির হিসাবে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে বিজয়ী বছরের বেশির ভাগ সময় যে ক্লাবে খেলেছেন, সেই হিসাবে লা লিগা থেকে এসেছেন ১৭ জন বিজয়ী, সিরি আ থেকে পাঁচজন, প্রিমিয়ার লিগ থেকে তিনজন এবং লিগ আঁ থেকে দুজন। লিওনেল মেসি তাঁর অষ্টম ও শেষ পুরস্কারটি জিতেছিলেন ইন্টার মায়ামির খেলোয়াড় হিসেবে।
প্রায় তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠানের শেষে কেইনের হাতে ট্রফি উঠেছে। তবে এই জয় ভবিষ্যতের ভোটারদের চোখে বুন্দেসলিগা নিয়ে ধারণা বদলাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।