যুক্তরাষ্ট্রে ডে লাইট সেভিং টাইম শেষ হচ্ছে আগামী রোববার, ১ নভেম্বর, স্থানীয় সময় রাত ২টায়। তাই শনিবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে হবে। আমেরিকায় সময় পরিবর্তন ২০২৬-এর এই ধাপে বেশির ভাগ মানুষ এক ঘণ্টা বাড়তি ঘুম পাবেন, তবে বিকেলে অন্ধকার নামবে আগে।
পিবিএসে প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ঘণ্টার পরিবর্তনও ঘুম ও শরীরের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে বছরে দুবার ঘড়ি বদলানোর নিয়ম বাতিল করা নিয়ে ওয়াশিংটনে আইনপ্রণেতারা আবারও আলোচনা শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ি পরিবর্তন কবে, কাঁটা এগোবে না পিছোবে?
এবার ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দিতে হবে। রোববার রাত ২টা থেকে স্ট্যান্ডার্ড টাইম চালু হবে এবং তা চলবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত। ওই দিন ডে লাইট সেভিং টাইম ফিরে এলে ঘড়ির কাঁটা আবার এক ঘণ্টা এগিয়ে দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সব জায়গায় অবশ্য ঘড়ি বদলায় না। হাওয়াই ও অ্যারিজোনার বেশির ভাগ এলাকা সারা বছর স্ট্যান্ডার্ড টাইমেই থাকে। এপির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ ডে লাইট সেভিং টাইম মানে না। যেসব দেশ মানে, সেগুলোর বেশির ভাগ উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে, আর দেশভেদে ঘড়ি বদলানোর তারিখও আলাদা।
সময় পরিবর্তনে ঘুমের সমস্যা কেন হয়
মস্তিষ্কে একটি প্রধান ঘড়ি আছে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টার এই চক্র সূর্যের আলো ও অন্ধকারের সংস্পর্শে নির্ধারিত হয়। কখন ঘুম পাবে আর কখন মানুষ সজাগ থাকবে, তা এই চক্রই ঠিক করে।
সকালের আলো এই অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে মিলিয়ে দেয়। সন্ধ্যায় মেলাটোনিন হরমোন বাড়তে থাকে, তখন ঘুম আসে। কিন্তু সন্ধ্যায় বেশি আলো পেলে, তা দিনের আলো হোক বা কম্পিউটারের পর্দা, মেলাটোনিন বাড়তে দেরি হয় এবং চক্রটি এলোমেলো হয়ে যায়। এই ঘড়ি হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, মানসিক চাপের হরমোন ও বিপাকক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে।
ঘড়ি বদলালেও অফিস ও স্কুল শুরুর সময় একই থাকে। এ কারণে এক ঘণ্টার পরিবর্তনও ঘুমের সূচি গোলমাল করে দিতে পারে। অনেকের কাছে বসন্তের পরিবর্তন বেশি কঠিন। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসন্তে ঘড়ি বদলের পরের প্রথম কয়েক দিনে সড়ক দুর্ঘটনা ও হার্ট অ্যাটাক বাড়ার সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
শরৎ ও শীতে সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত কিছু মানুষ প্রায়ই বেশি কষ্ট পান। এটি এক ধরনের বিষণ্নতা, যা সাধারণত ছোট দিন ও কম সূর্যালোকের সঙ্গে যুক্ত। শিফটে কাজ করা কর্মী এবং নিয়মিত কম ঘুমানো মানুষের ওপরও সময় পরিবর্তন বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন রাতে প্রস্তাবিত সাত ঘণ্টার কম ঘুমান। অর্ধেকের বেশি কিশোর-কিশোরী স্কুলের দিনগুলোতে প্রস্তাবিত আট ঘণ্টা ঘুম পায় না। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে হৃদ্রোগ, বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা কমে যাওয়া ও স্থূলতার মতো সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।
নতুন সময়ের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবেন?
- পরিবর্তনের আগের কয়েক দিন প্রতি রাতে ঘুমানোর সময় অন্তত ১৫ মিনিট করে সরিয়ে নিলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
- সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক করতে সকালের রোদ সবচেয়ে জরুরি।
- বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে জানালার পাশে বসলেও কাজ হয়।
- সন্ধ্যায় কম্পিউটারের পর্দার মতো কৃত্রিম আলো কম ব্যবহার করলে ঘুম আসতে দেরি কম হয়।
স্থায়ী ডে লাইট সেভিং টাইম নিয়ে কংগ্রেসে কী হচ্ছে
এপি-এনওআরসির গত বছরের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ১২ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক বছরে দুবার ঘড়ি বদলানোর পক্ষে, আর প্রায় অর্ধেক এর বিরোধী। জরিপে আরও দেখা যায়, একটি বেছে নিতে হলে বেশির ভাগ আমেরিকান সন্ধ্যার বাড়তি এক ঘণ্টা আলো রাখতে চান।
তবে আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিনসহ স্বাস্থ্য সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সারা বছর স্ট্যান্ডার্ড টাইম রাখার পক্ষে। তাদের যুক্তি, এই সময় সূর্যের সঙ্গে এবং মানুষের সার্কাডিয়ান রিদমের সঙ্গে বেশি মেলে।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭০-এর দশকে একবার স্থায়ী ডে লাইট সেভিং টাইম চালু করেছিল। তবে জনসাধারণের আপত্তির মুখে তা এক বছরও টেকেনি। এ বছরের গ্রীষ্মে ওয়াশিংটনে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব বিপুল সমর্থনে পাস হয়। তবে প্রস্তাবটি স্থায়ী ডে লাইট সেভিং টাইমের পক্ষে নাকি স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইমের পক্ষে, প্রাপ্ত তথ্যে তা স্পষ্ট নয়।
পিবিএস একটি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। তার শিরোনাম অনুযায়ী, স্থায়ী ডে লাইট সেভিং টাইমের পক্ষে চাপ দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরকানসাসের সিনেটর টম কটনকে ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেট বিলটি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। কংগ্রেস আইন না বদলালে পরের ঘড়ি পরিবর্তন হবে ১৪ মার্চ।