ইন্ডিগো পাওয়ার ব্যাংক আগুন ফ্লাইট ঘটনায় ১৮০ যাত্রী বহনকারী একটি ডেলি-চেন্নাই বিমান হ্যাদরাবাদে জরুরি ল্যান্ডিং করেছে। বিমানটি দুপুর ১.৩০টায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ থেকে উড়ে ৪টায় চেন্নাই পৌঁছাতে ছিল, কিন্তু ওভারহেড বিনে একটি পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন ধরতে দেখা গেলে পাইলটরা বিমানটিকে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামালেন। বিমান দুপুর ৩.৫৯টায় নিরাপদে ল্যান্ড করে। থি নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোনো যাত্রী আহত হয়নি।
ইন্ডিগো পাওয়ার ব্যাংক আগুন ফ্লাইট: ঘটনার বিবরণ
ফ্লাইট ৬ই ৬১১৫, একটি এয়ারবাস এ৩২১, উড়ান পথে একটি যাত্রীর হাতের পাওয়ার ব্যাংক ওভারহেড স্টোরেজ বিনে আগুন ধরল। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেল, জ্বালা বিনের ভিতর থেকে বের হচ্ছে এবং কিছু যাত্রী কাপড় ও ব্যাগ দিয়ে আগুন বু�াতে চেষ্টা করছেন। এক যাত্রী শান্ত থাকার অনুরোধ করছেন। কেবিন ক্রু তৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনিয়েছে।
বিমান কোম্পানির वक्तব্য
ইন্ডিগো একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “ডেলি থেকে চেন্নাই যাওয়া ৬ই ৬১১৫ নম্বর ফ্লাইট অক্টোবর ১১-এ একটি যাত্রীর ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ধোঁয়া উঠার কারণে হ্যাদরাবাদে ডাইভার্ট করা হয়েছে। কেবিন ক্রু দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রোটোকল অনুযায়ী পাইলটরা বিমান নামিয়েছেন এবং নিরাপদে ল্যান্ড করিয়েছেন। চেন্নাই যেতে বিকল্প বিমান ব্যবস্থা করা হয়েছে।” কোম্পানি অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে রিফ্রেশমেন্ট ও সময়মতো আপডেট দিচ্ছে।
পাওয়ার ব্যাংক নিয়ম ও পূর্বের ঘটনা
- পাওয়ার ব্যাংক চেক-ইন ব্যাগেজে নিষিদ্ধ, কেবিন ব্যাগেজে রাখা যাবে।
- লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ওভারহিট হলে আগুন ধরতে পারে, তাই ২০২৫ সালের শেষ থেকে ফ্লাইটে ডিভাইস চার্জ করা বন্ধ করা হয়েছে।
- মে ৫, ২০২৬-এ ইন্ডিগো ৬ই ১০৮ ফ্লাইটে হ্যাদরাবাদ থেকে চণ্ডীগড়ে পাওয়ার ব্যাংক আগুন ধরলে ৫ জন আহত হয়েছিল।
- অক্টোবর ১৯, ২০২৫-এ ডেলি-দিমাপুর ৬ই ২১০৭ ফ্লাইটে সিট-ব্যাক পকেটে পাওয়ার ব্যাংক আগুন ধরলে বিমান পার্কিং বে ফিরে যাওয়া বাধ্য হয়েছিল।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চালিত ডিভাইস বিমানের কেবিনে আগুন হাতের নিতে পারে, যা যাত্রী ও ক্রুর জন্য বড় ঝুঁকি। এই ঘটনা আবারো দেখিয়েছে যে বর্তমান নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং যাত্রীদের সচেতনতা আরও কঠোর করা জরুরি। বাংলাদেশি প্রবাসী যাত্রীদের জন্যও এটি একটি সতর্কতা, কারণ অনেক সময় তারা পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে সফর করেন। এয়ারলাইন, রেগুলেটর ও যাত্রী সকলের সতর্কতা মিলিতেই ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব।