ওয়াশিংটন, ডিসি | ২৩ মে ২০২৬ | সন্ধ্যা প্রায় ৬:০০টা (ইডিটি)
শনিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের কাছে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনা ঘটে, যখন এক সশস্ত্র ব্যক্তি ১৭তম স্ট্রিট এনডব্লিউ এবং পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ইউনাইটেড স্টেটস সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে গুলি চালায়। সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালালে তীব্র গোলাগুলির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন নিহত হয়।
কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে মেরিল্যান্ডের ২১ বছর বয়সী নাসিরে বেস্ট হিসেবে। তদন্তকারীদের মতে, সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর বেস্ট একটি ব্যাগ নিয়ে চেকপয়েন্টের কাছে আসে। কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ সে ব্যাগ থেকে একটি হ্যান্ডগান বের করে হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সের বাইরে অবস্থানরত সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে।
গোলাগুলির সময় এক পুরুষ পথচারী গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আঘাত গুরুতর হলেও প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তিনি সন্দেহভাজনের গুলিতে নাকি কর্মকর্তাদের পাল্টা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা এখনো তদন্তাধীন। এ ঘটনায় কোনো সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হননি।
গুলির সময় প্রেসিডেন্ট Donald Trump হোয়াইট হাউসের ভেতরে ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে তিনি নিরাপদ আছেন। ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্স সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয় এবং অতিরিক্ত হুমকির আশঙ্কায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা তল্লাশি চালান।
হোয়াইট হাউস কভার করা সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে আতঙ্কের পরিবেশের বর্ণনা দিয়েছেন। এবিসি ও এনবিসির সংবাদদাতারা জানান, নর্থ লন এলাকার কাছে “ডজনখানেক গুলির শব্দ” শোনার পর তারা দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুম ও কাছাকাছি মিডিয়া তাঁবুতে আশ্রয় নেন।
ফেডারেল তদন্তকারীরা পরে জানান, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে একাধিক ঘটনার রেকর্ড ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বেস্ট হোয়াইট হাউস এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল এবং অস্বাভাবিক আচরণ ও ধর্মীয় বিভ্রান্তিকর দাবি করার পর তাকে ওই এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এফবিআই, সিক্রেট সার্ভিস এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে। কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত করেননি যে এ ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত ছিল কিনা।
সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একাধিক নিরাপত্তা ঘটনার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।