ঢাকা, ৪ জুন: বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে জনবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ব্যর্থতার দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।
তাদের মতে, বিদ্যুৎ শুধু একটি মৌলিক সেবা নয়; এটি কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। ফলে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে এবং বাজারে পণ্য ও সেবার দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করবে।
বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ভুল পরিকল্পনা, অস্বচ্ছ চুক্তি, অতিরিক্ত সক্ষমতার নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং জবাবদিহিতার অভাবে বিদ্যুৎ খাত সংকটে পড়েছে। এখন সেই ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এবি পার্টির নেতারা বলেন, একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পথ হওয়া উচিত অপচয় ও দুর্নীতি রোধ করা, জনগণের ওপর নতুন আর্থিক বোঝা চাপানো নয়। তারা সতর্ক করে বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
দলটি অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিদ্যুৎ খাতের সকল চুক্তি, ব্যয় এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি খাতটির প্রকৃত আর্থিক চিত্র জনগণের সামনে প্রকাশ এবং দুর্নীতি ও অপচয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।